ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মার্কিন অভিবাসী সমাজে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিবাসীদের আশঙ্কা, ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে চলমান ইমিগ্রেশন সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে পারেন। এমনকি স্থাগিতাদেশও জারি করতে পারেন তিনি। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টের এসব আদেশ কোনো কারণে অকার্যকর হলেও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় দেখা দিতে পারে ভয়াবহ জট।
ট্রাম্পকে নিয়ে আতঙ্ক আরো জোরালো হচ্ছে তখনই, যখন আইনজীবীরা ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই যারা অভিবাসনের জন্য উপযুক্ত তাদের এখনই স্ট্যাটাস আপডেট করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসাকে কেন্দ্র করে নয়, বরং মার্কিন অভিবাসন নীতি দিনে দিনে কঠোর করার কথা ভাবছে দেশটির সরকার। ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশনের সকল আবেদন ফি মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তা কার্যকরও হয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কাজ করেন বেশ কয়েকজন এটর্নি এবং প্যারালিগ্যাল। তাদের প্রত্যেকেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ইমিগ্রেশন আবেদনের প্রসেস নিয়ে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশি একজন প্যারালিগ্যাল জানান, এখন যারা আবেদন করবেন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের পরও তাদের ক্ষতি হবার আশঙ্কা কম থাকবে। ব্রিটেনের মতো অবৈধদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হলে যারা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন তারা বাড়তি কোনো ঝামেলায় না পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো গাফিলতি না করাই ভাল।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এটর্নি জেরাল্ড ক্যারিকারি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগেই সকল প্রকার ইমিগ্রেশন আবেদন ফি বাড়ানো হয়েছে। যদিও এই ফি বাড়ানোর সঙ্গে ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পর নির্বাহী আদেশে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারেন। এর ফলে অনেক কিছুই কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে যারা উপযুক্ত হওয়ার পরও তাদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস আপডেট করছেন না তারা সমস্যায় পড়তে পারেন। তিনি বলেন, অনেকেই নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য উপযুক্ত হলেও এখনো আবেদন করছেন না। আবার অনেকে স্ত্রী, বাবা-মা, সন্তান এবং ভাই-বোনদের জন্য আবেদন করেননি। ভবিষ্যতে এসব ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
এটর্নি জেরাল্ড ক্যারিকারি আরো বলেন, আইন করে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে পরিবর্তন আসা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশে অনেক কিছুই করতে পারেন। পরবর্তীতে সেই আদেশের কী হবে তা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে পরিবর্তন আসলে তা অভিবাসীদের বেকায়দায় ফেলতে পারে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এটর্নি জেরাল্ড ক্যারিকারি বলেন, যারা হেইট ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন, তারা বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। তবে অভিজ্ঞ এটর্নিদের পরামর্শ নিয়েই আবেদন করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এটর্নি জেরাল্ড ক্যারিকেরির সহযোগী প্যারালিগ্যাল হিসাবে কাজ করছেন বাংলাদেশি কমিউনিটি লিডার আবদুন নূর বড় ভূঁইয়া। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটিকে সচেতন করতেই আমাদের এই মিট দ্য প্রেসের আয়োজন। তবে আগামী মাসে সাধারণ মানুষদের নিয়ে আইনি সহযোগিতার জন্যে আমরা একটি সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম করার পরিকল্পনা করছি।
মিট দ্য প্রেস মঞ্চে আরো উপবিষ্ট ছিলেন বিশিষ্ট কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুব আলী বুলু।
ইত্তেফাক/এএম।
