জিয়াউল হাসান সবুজ
সহকারী শিক্ষক, গজালিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগেরহাট
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে বাংলা বানানের বিভিন্ন নিয়ম প্রকাশ হচ্ছে। আজ পরিচিত যে শব্দগুলি হরহামেশাই আমরা ব্যবহার করছি, লিখছি কিংবা পড়ছি, সেই শব্দগুলি শুদ্ধ ও ব্যাকরণসম্মত কিনা এসো দেখে নেই।
আমরা নিজের অজান্তেই ভুল বানানে লিখছি। অথচ একটু সচেতনতার সাথে নিয়মিত বাংলা বানান চর্চার মাধ্যমে এই সমস্যা অনায়াসেই কাটিয়ে উঠতে পারি ।
প্রথমত- আমাদের নগরে রঙিন আলোর খেলায় সাইনবোর্ড, দেয়াললিখনে একটু মনোযোগ দিলেই ভড়কে যেতে হয় হাজারো ভুল বানান দেখে। দেখা মেলে জ্বলজ্বল করছে ‘ষ্টোর্স’ (হবে স্টোর্স), (সঠিক বানানটা ব্র্যাকেটে দেওয়া হলো) ‘ষ্টোর’ (স্টোর), ‘এণ্ড’ (অ্যান্ড), ‘ঘন্টা’ (ঘণ্টা), ‘ইনষ্টিটিউট’ (ইনস্টিটিউট), ‘ষ্ট্যান্ড’ (স্ট্যান্ড), ‘ফ্যাক্টরী’ (ফ্যাক্টরি), ‘ফার্ণিচার’ (ফার্নিচার), ‘মডার্ণ’ (মডার্ন), ‘রেষ্টুরেন্ট’ (রেস্টুরেন্ট), ‘কম্পানী’ (কোম্পানি) ‘আইনজীবি’ (আইনজীবী), ‘ব্রিয়াণী’ (বিরিয়ানি), ‘কর্ণেল’ (কর্নেল), ‘ষ্ট্যাম্প’ (স্ট্যাম্প), ‘ফটোষ্ট্যাট’ (ফটোস্ট্যাট), ‘ভ্রাম্যমান’ (ভ্রাম্যমাণ), ‘ডায়াগনষ্টিক’, (ডায়াগনস্টিক) ‘ব্যাটারী’ (ব্যাটারি), ‘মেশিনারী’ (মেশিনারি) ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার দেখে থাকবে ‘রেস্তোরাঁ’ শব্দটি প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায় ‘রেঁস্তোরা’ বা ‘রেস্তোরা’ বানানে। ‘বেগম রোকেয়া সরণি’কে ভুল বানানে লেখা হচ্ছে ‘বেগম রোকেয়া স্মরণী’ বা ‘বেগম রোকেয়া স্বরণী’। সরণি মানে পথ বা রাস্তা। অর্থাত্ রোকেয়ার নামের পথটি হচ্ছে রোকেয়া সরণি। ‘গোল চত্বর’কে ভুল বানানে লেখা হচ্ছে ‘গোল চক্কর’। এতে ‘চত্বর’ আর ‘সরণি’র অর্থই পাল্টে যাচ্ছে। সাইনবোর্ডের অসংখ্য ভুল বানানের মধ্যে আছে ‘গভর্ণর’, ‘মডার্ণ’, ‘রেঁনেসা’, ‘রেজিষ্ট্রি’ ‘পঁচা’ (শুদ্ধ বানানগুলো হচ্ছে : গভর্নর, মডার্ন, রেনেসাঁ, রেজিস্ট্রি, পচা)।
দ্বিতীয়ত- আধুনিক বাংলা বানানে কিছু কিছু শব্দে রেফ এর পর ‘্য-ফলা’ বাদ দেয়া হয়েছে, যেমন- সূর্য, কার্য, ধর্ম, কর্ম ইত্যাদি। কিন্তু কেউ কেউ ঢালাওভাবে এ নিয়ম প্রয়োগ করে ভুল করেন, যেমন- দৈর্ঘ, বৈশিষ্ট, সামর্থ ইত্যাদি শব্দ ভুল। এদের শুদ্ধ বানান হবে দৈর্ঘ্য, বৈশিষ্ট্য, সামর্থ্য।
বাংলা যে কোন শব্দে রেফ (রেফ ) এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত প্রয়োগ ভুল। যেমন- পূর্ব্ব, সর্দ্দার, শর্ত্ত, কার্ত্তিক, কর্জ্জ, বার্দ্ধক্য, কর্ম্ম, অর্চ্চনা ইত্যাদি। এগুলোর শুদ্ধ বানান হবে যথাক্রমে- পূর্ব, সর্দার, শর্ত, কার্তিক, কর্জ, বার্ধক্য, কর্ম ও অর্চনা।
শব্দের অন্তে বিসর্গ প্রয়োগ ভুল, যেমন- কার্যতঃ, প্রধানতঃ মূলতঃ বস্তুতঃ ক্রমশঃ প্রায়শঃ ইত্যাদি। এগুলোর বানান হবে যথাক্রমে- কার্যত, প্রধানত, মূলত, বস্তুত, ক্রমশ ও প্রায়শ। তবে শব্দের মধ্যে বিসর্গ থাকতে পারে, যেমন- প্রাতঃকাল, দুঃসময়, দুঃসহ ইত্যাদি। তবে অভিধানসিদ্ধ কতগুলো শব্দের মধ্যে বিসর্গ বর্জনীয়, যেমন- দুস্থ, নিসপৃহ ইত্যাদি।
(সূত্র: ভাষা শিক্ষা ও ব্যাকরণ-মাহবুবুল আলম, ভাষা প্রকাশ ব্যাকরণ ও রচনা -অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী )

