এলইডি টেলিভিশনের নামে প্রতারণা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১০:৫৭
 
দামি ব্র্যান্ডের লোগো লাগিয়ে নিম্নমানের টেলিভিশনের ছড়াছড়ি বাজারে। স্যামসাং, এলজি, সনি এরকম বিখ্যাত ব্র্যান্ডের এলইডি অথবা এলসিডি টেলিভিশন অর্ধেক মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে বাজারের বেশির ভাগ দোকানে। ক্রেতারা অর্ধেক দামে পেয়ে খুশি মনে কিনে নিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়। প্রথম দিকে টিভি সেটের পর্দায় ছবির মান খুব একটা খারাপ থাকে না। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই ঘটে বিপত্তি। এরপর তা সারানোর কোনো উপায়ও থাকে না। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এমন ধরনের ৪১টি টিভি সেট জব্দ করেছে রাজধানীর গুলিস্তানের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের আলী ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি, উষা এন্টারপ্রাইজ, এসএম আলী ইলেকট্রনিকস, আলী ইলেকট্রনিকস, ব্রাদার্স ইলেকট্রনিকস ও সিয়াম ইলেকট্রনিকস নামের ছয়টি দোকান থেকে।
 
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, চীন থেকে খুব কম দামে অর্ডার দিয়ে এলইডি টিভি সেট তৈরি করা হয়। একটি ২১ ইঞ্চি এলইডি টিভি সেটের দাম সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা, ৪২ ইঞ্চি টিভির দাম ১০ হাজার ও ২৪ ইঞ্চি টিভি সেটের দাম ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। আমদানিকারকরা একটি গোডাউনে রেখে এর মধ্যে স্যামসাং, এলজি ও সনি মনোগ্রামের স্টিকার লাগিয়ে দেয়। এ ধরনের ৪১টি টিভি সেট সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট ও কাপ্তানবাজারের ছয়টি দোকান থেকে জব্দ করা হয়। ওইসব দোকান থেকে স্যামসাং, এলজি ও সনি মনোগ্রামের এক হাজার স্টিকার, সফটওয়্যার ও স্টিকার বসানোর সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
 
নিম্নমানের টিভি বিক্রির দায় স্বীকার করায় তিনটি দোকানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর মধ্যে আলী ইন্টারন্যাশনালের মালিক হজরত আলীকে দুই লাখ টাকা ও ব্যবস্থাপক শাহীন আলমকে ছয় মাসের কারাদণ্ড, উষা এন্টারপ্রাইজের মালিক ইসমাইলকে আড়াই লাখ টাকা ও ব্যবস্থাপক সোহেল হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা, এসএম ইলেকট্রনিকসের মালিক মোহাম্মদ আলীকে ৭৫ হাজার টাকা, কাপ্তানবাজারের আলী ইন্টারন্যাশনালের মালিক আলীকে ৪ লাখ টাকা, ব্রাদার্স ইলেকট্রনিকসের আমানউল্লাহকে ৪০ হাজার এবং সিয়াম ইলেকট্রনিকসের মালিক দেলোয়ারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।