জেনেভায় পুনরায় শুরু হচ্ছে সিরীয় শান্তি আলোচনা, ত্রাণবহর লুট

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৭:২৫
জেনেভায় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সিরিয়া বিষয়ক শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হচ্ছে। তবে এর সফলতার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 
 
এদিকে সিরিয়ার অবরুদ্ধ এলাকায় জাতিসংঘের ত্রাণ বহর থেকে বন্দুকধারীরা ত্রাণ সামগ্রী লুট করেছে। শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে ত্রাণ লুটের এই ঘটনা ঘটেছে। বুধবার জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা একথা জানান।
 
জেনেভায় শেষ দফা বৈঠকের ১০ মাস পর আলোচনার প্রাক্কালে রাশিয়া বোমা হামলা বন্ধের জন্য সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
 
তবে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদের পৌঁছার মাত্র কয়েক ঘন্টা পর জাতিসংঘ দূত স্ট্যাফেন ডি মিস্তুরা জানান শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র খুবই সীমিত। প্রবীণ এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি এই আলোচনার সফলতা আশা করছিনা।’ তিনি আরো জানান, সামনে আরো আলোচনাই সবচেয়ে বড় আশা হতে পারে।
 
সরকারী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন জাতিসংঘে সিরীয় দূত বাশার আল জাফরি ও প্রধান বিরোধী পক্ষ হাই নেগোশিয়েশন কমিটি (এইচএনসি)’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ নসর আল-হারিরি ও আইনজীবী মোহাম্মদ সাবরা। এদিকে গত দুই মাসে মাত্র তিনটি ত্রাণবাহী বহর সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে পৌঁছতে পেরেছে। 
 
জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক প্রধান স্টিফেন ও’ব্রাইয়েন প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটানো সিরীয়দের জন্য এই ত্রাণ সহায়তাকে প্রয়োজনের তুলনায় ‘অত্যন্ত অপ্রতুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় নগরী হোমসের কাছে আসাদ বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত ওয়ায়েরে দুটি ত্রাণ বহর পৌঁছার কথা রয়েছে। তবে শনিবার সেখানে যাওয়ার পথে বহরটি ¯œাইপারের হামলার (গাড়ি লক্ষ্য করে দূর থেকে বন্দুক হামলা) কবলে পড়লে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
 
ও’ব্রাইয়েন নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, পরের দিন গোলা বর্ষণ ও বন্দুক হামলার কারণে ট্রাকগুলো শহরটিতে পৌঁছতে পারেনি। কিন্তু গুদামে ফিরে যাওয়ার সময় বন্দুকধারীরা জোরপূর্বক বহরটিকে ‘সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায়’ নিয়ে যায়। ও’ব্রাইয়েন বলেন, ‘ট্রাকগুলো ও এগুলোর চালকদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। কয়েকজনকে ছেড়েও দেয়া হয়েছে। তবে তাদের ট্রাকগুলো থেকে মানবিক ত্রাণ সহায়তা রেখে দেয়া হয়েছে। চালকদের সবাই নিরাপদে আছেন।’ ও’ব্রাইয়েন বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার বেসামরিক লোক অবরুদ্ধ হয়ে আছে। প্রায় চার মাস ধরে তারা কোন ধরনের মানবিক সহায়তা পায়নি। এএফপি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির