দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গুণ্ডামি’র বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৯:৩৫
রামজাস কলেজে সহিংস ঘটনার কয়েকদিন পর এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। বিজেপি সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ক্যাম্পাসে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করায় এদিন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা জানায় বিক্ষোভকারীরা।
 
বিক্ষোভকারীরা “আজাদী” (স্বাধীনতা) স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাসকে “গুন্ডাগারদি” (গুন্ডামি বা রাহাজানি) মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ক্যাম্পাসে সহিংসতা করার নিন্দাসূচক বিভিন্ন প্লাকার্ড বহন করেন। এসময় মিছিলের সঙ্গে বহু নারী ও পুরুষ পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। 
 
এদিকে এবিভিপি’র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করায় গুরমেহার কাউর নামে এক ছাত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাউর প্রচারণায় অংশ নিয়ে বলেন, যা কিছু সম্ভব আমি সব করব। পর পর কয়েকটি টুইটে ঐ ছাত্রী অন্যান্যদের এই মিছিলে যোগ দেয়ার ও এ নিয়ে লেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, কেউ যদি আমার সাহস ও বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাহলে আমি আরো বেশি প্রতিবাদ জানাব। লেডি শ্রী রাম কলেজের ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ঐ সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বার্তা পোস্ট করেন। এরপর তাকেও ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। 
 
IMG0
 
ওদিকে গত পরশু এবিভিপি’র কর্মীরা বামপন্থী শিক্ষার্থীদের কার্যকলাপকে “জাতীয়তা বিরোধী” আখ্যা দিয়ে “ত্রিরঙ্গ” নামে একটি মিছিল বের করে। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উমর খালিদকে আমন্ত্রণ জানানোর জের ধরে গত সপ্তাহে রামজাস কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর এ সংগঠনের কর্মীরা হামলা চালায়। তাদেরকে মারধর করে এবং ক্লাসরুমগুলোতে ভাংচুর চালায়। গত বছর ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদ বিরোধী স্লোগান দেওয়ার অপরাধে উমরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনার একদিন পর এর প্রতিবাদে কলেজের বাইরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। সেসময়  সংগঠনের কর্মীরা তাদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ১২ জন আহত হয়।
 
এ ঘটনা এখন রাজনীতির মঞ্চেও ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং রাহুল গান্ধী প্রতিবাদী ছাত্রদের পক্ষ নিয়েছেন। কেজরিওয়াল তার টুইটে লিখেছেন, তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বেইজালের সঙ্গে দেখা করে ঐ সংগঠনের গুণ্ডামি ও ধর্ষণের হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতা ইউনিয়ন মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিক্ষোভকারীদের সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতার নামে “জাতীয়তা বিরোধী” কার্যকলাপ মার্জনা করা যায়না। এনডিটিভি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির