সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফেনী নদীতে বারুণী স্নানে থাকবেনা সীমান্ত পারাপারের সুযোগ

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৫১

রামগড় সাব্রুম সীমান্তবর্তী ফেনী নদীতে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বারুণী স্নান উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে দুই দেশের লাখো মানুষের মিলনমেলা হয় ফেনী নদীতে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর শিথিলতায় সারাদিন এপার-ওপারে ঘুরাঘুরি করেন দুই দেশের মানুষ। এ সুযোগ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসেন হাজারো নারী-পুরুষ। অবাধ পারাপারের সুযোগে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা ভারতে অনুপ্রবেশ করতে পারে এমন আশংকায় ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ সর্বোচ্চ সর্তকতা জারী করেছে সীমান্তে। ফলে গত বছরের মত এবারও বারুণী মেলা উপলক্ষে সীমান্ত পারাপারের কোনো সুযোগ দেবে না বিজিবি-বিএসএফ। সীমান্তের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকে চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতিবছর ফেনী নদীতে বারুণী স্নানে মিলিত হন দুই দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ। তারা পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য তর্পণ করে এখানে। নদীর দুই তীরে দুই দেশের পুরোহিতরা সকালে বসেন পূজা অর্চনার জন্য। পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা ছাড়াও নিজের পুণ্যলাভ ও সকল প্রকার পাপ, পংকিলতা থেকে মুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনী নদীর বারুণী স্নানে ছুটে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বী আবালবৃদ্ধবনিতা।

বারুণী স্নান উৎসবটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও এখন তা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দুই দেশে অবস্থানকারী আত্মীয়-স্বজনদের দেখা সাক্ষাৎ করার জন্য অনেকে দূর দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন। ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী মেলা উপলক্ষে দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই দিনে দুই দেশের সীমান্ত অঘোষিতভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে। কিন্তু গত বছর পারাপারের এ সুযোগ বন্ধ করে দেয় বিএসএফ।
 
সাব্রুম থেকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩০ এপ্রিল) আগরতলার প্রভাবশালী পত্রিকা দৈনিক সংবাদে এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘বারুণী মেলার সুযোগ নিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের গোয়েন্দা তথ্যের কারণে বিএসএফ সাব্রুম সীমান্তে সর্বোচ্চ সর্তকতা জারী করে।’ সূত্র জানায়, বিএসএফ ছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সাব্রুমে বিএসএফ, পুলিশ ও  মহকুমা প্রশাসনের যৌথ সভায়ও বারুণী স্নানোৎসবকে কেন্দ্র করে সীমান্ত পারাপার রুখতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

আরো পড়ুন: ছিনতাই ও অপহরণের অভিযোগ, জাবি ছাত্রলীগের ৫ কর্মী বহিষ্কার

এদিকে, বিজিবির রামগড়স্থ ৪৩ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষও বারুণী মেলা উপলক্ষে সীমান্ত পারাপার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত অতিক্রম রোধ এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার বাংলাদেশী ও ভারতের পুর্ণ্যাথীদের স্নান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার জন্য ফেনী নদীতে দুটি পৃথক স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এবার অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন থাকবে সীমান্তে।

রামগড় কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির প্রধান পুরোহিত মৃদুল চক্রবর্তী জানান, এ বছর মঙ্গলবার (২এপ্রিল) সকাল ৯টা হতে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত বারুণী স্নান করা যাবে। 

ইত্তেফাক/অনি