বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বেশ পুরনো

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৭, ১০:১৭
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নানা অসঙ্গতি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে বিভিন্ন রকম রহস্যের কথা বলা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। এ বিষয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। এ তদন্ত কমিটি দুটির প্রতিবেদন প্রকাশ হলেই আসল ঘটনা জানা যাবে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ খুবই সামান্য।
 
গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দুই তদন্ত কমিটির সদস্যরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটির তিন সদস্য গতকাল সকালে ৩০ তলা ভবনের ১৪ তলায় যান। সেখানে তারা দেড়-দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে তদন্ত কমিটির প্রধান ও নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল সাংবাদিকদের বলেন, আগুন লাগার সময়ে ওই বিভাগের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। রাত ৮টার মধ্যে নিরাপত্তা বিভাগ নিয়মানুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব বিভাগের দরজা বন্ধ করে দেয়। আর রাত ৯টার পরে আগুন লাগে। বিষয়টা প্রথমে নিরাপত্তা বিভাগ জানতে পেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও তার সহকারীর দুইটি কক্ষই পুড়ে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় অন্যান্য ডেস্কের কোনো ক্ষতি হয়নি। ওই দুই কক্ষে থাকা টেবিল, চেয়ার, সোফা ইত্যাদি পুড়েছে। কিন্তু ওইখানে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আরো বলেন, আগুন লাগার ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ খুবই সামান্য। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে, তা স্পষ্ট করে তিনি বলেননি।
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক লে. কর্নেল (অব.) মো. মাহমুদুল হক খান চৌধুরী ও কমন সার্ভিসেস্ ডিপার্টমেন্ট-২-এর মহাব্যবস্থাপক মো. তফাজ্জল হোসেন।
 
গতকাল দুপুরের পর ফায়ার সার্ভিস গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময়ে তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের। এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও অগ্নিনির্বাপণে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় না।’ তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। এলাকাবাসীর ফোনে তারা নিজ উদ্যোগে ছুটে গেছেন। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্তে বিস্তারিত আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের জিডি
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক নুরুল ইসলাম মতিঝিল থানায় জিডি করেন। জিডিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয় ৩০ তলা ভবনের ১৪ তলার বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে আগুনের শিখা দেখা যায়। তাত্ক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ৩০ মিনিটের ভেতরের মধ্যে আগুনের শিখা নিভিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
 
স্থানীয়রা ফোন করে আগুনের খবর দেয় ফায়ার সার্ভিসকে
স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের খবর জানতে পারেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আর সাধারণ মানুষের টেলিফোন পেয়েই তারা আগুন নেভাতে এসেছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার আলী আহমেদ খান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা কিংবা কেউই ফায়ার সার্ভিস অফিসে টেলিফোন করেননি। স্থানীয়রাই আমাদের খবর দেন। তারপর ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের প্রায় ৭০ জন কর্মী যান ঘটনাস্থলে।
 
বাজেনি ফায়ার অ্যালার্ম, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন অসচেতন
ব্রিগেডিয়ার আলী আহমেদ খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যুতের লাইন অনেক পুরনো। এক লাইন থেকে অনেক লাইনের সংযোগ দেওয়া আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যালার্মিং সিস্টেম ভালো না। মাঝে মধ্যে ফলস অ্যালার্ম দেয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব কর্মী বাহিনীর মহড়া দেওয়ার কথা। কিন্তু আমরা জেনেছি, সেটাও নাকি নিয়মিত হয় না। তিনি বলেন,  অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কেউই আমলে নেননি। এ ভবনের অবকাঠামো অগ্নিনির্বাপক উপযোগী নয়। তাছাড়া ফায়ার অ্যালার্মগুলোও অকার্যকর। যেগুলো আছে তা বাস্তবিক অর্থে কোনো কাজে আসে না।
 
আগুনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি সামান্য
গতকাল শুক্রবার সকালে পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন,  ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ সামান্য। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগতে পারে। তিনি আরো বলেন, বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ বিশ্বাসের কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া পুড়েছে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ডেস্কের আসবাব ও যাবতীয় কাগজপত্র। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।