কাঠমান্ডুতে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৭, ১৮:৪০
বাংলাদেশ দূতাবাস কাঠমান্ডু নেপালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে তিনটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। রবিবার রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামশ কর্তৃক দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শুরু হয় ।  
 
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের মুক্তি আন্দোলনের দীর্ঘ পরিক্রমায় আত্মত্যাগী সকল শহীদ সহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দের আত্মার মাগফেরাতের উদ্দেশ্যে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয় । দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন । 
 
দুপুরে, বাংলাদেশ দূতাবাস ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে ললিতপুরের পার্ক গ্যালারীতে কাঠমান্ডু ট্রিয়ানালের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আগত  শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি শিল্পকর্ম প্রদর্শনী আয়োজন করা হয় । প্রদর্শনীতে শিল্পী ঢালী আল মামুন, দিলারা বেগম জলি, শিশির ভট্টাচার্য, মোস্তফা জামান, জিহান করিম, প্রমথেশ দাস পুলক, মারজিয়া ফারহানা এবং রাজীব দত্তের শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয় । শিল্পের মাধ্যমে সমকালীন বাংলাদেশকে উপস্থাপনের এ বিশেষ প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রদূত। শিল্প প্রদর্শণীটি আগামী ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
 
সন্ধ্যায়, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে হোটেল রেডিসনে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন নেপালের মাননীয় উপ-রাষ্ট্রপতি নন্দ বাহাদুর পুণ। নেপাল আর্মি ব্যান্ডের পরিবেশনায় দু দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামশ তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীন বাংলার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ বিনির্মাণের  সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 
 
তিনি তাঁর বক্তৃতায় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসী সহযোগিতার জন্য নেপালি জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীপ্ত নেতৃত্বে অগ্রসরমান বাংলাদেশের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে নেপাল ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে - শীর্ষ ও বিশিষ্ট পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক ভ্রমণ সহযোগিতা সহ দূতাবাসের বিভিন্ন কর্মসূচী ও দু-দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পন্ন সাম্প্রতিক চুক্তি সমূহের উপরও আলোকপাত করেন । 
 
যথাযোগ্য উৎসাহ  ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত দিনটির আয়োজনে নেপালের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রদূত, চার্জ দ্যা এফেয়ার্স, কূটনীতিক, পররাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারী দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও প্রবাসী বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সাত শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। সান্ধ্য ভোজে দূতাবাসের আয়োজনে মুখরোচক বাংলাদেশী খাবার পরিবেশন করা হয়। সবশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথিদের মাঝে দূতাবাসের বার্ষিক প্রকাশনা বিতরণ করা হয়।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির