নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৭, ১৫:২৬
 
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন স্থায়ী মিশনের কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা জানিয়েছে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। এ উপলক্ষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কূটনীতিকদের স্বাগত জানান স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, তাঁর সহধর্মীনি ফাহমিদা জাবিন ও মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মাসুদ বিন মোমেনজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ, দু’লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুদের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
 
সমবেত বিদেশী কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সামনে বাঙালির ইতিহাস, আবহমান ঐতিহ্য ও সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আমাদের আত্মপরিচয় অর্জনের দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের জনগণের উপর ঘটে যাওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত, নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্টতম গণহত্যার স্মরণে বাংলাদেশ ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে মর্মে তিনি উপস্থিত অতিথিদের জানান।
IMG0
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার জঙ্গী ও উগ্র সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণসহ ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা- বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, সরকার স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা।
 
জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে জাতিসংঘের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মিরোসলাভ জেনকা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজের বাণী পড়ে শোনান। অনুষ্ঠানটিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ভারত, কিউবা,চিন, কুয়েত, মিশর, আলজেরিয়া, শ্রীলংকা, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের স্থায়ী মিশনের  দুই শতাধিক কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।
 
পালতোলা নৌকা, নকশী কাঁথা, জামদানি, অলঙ্কার-সামগ্রী, মৃৎশিল্প সামগ্রী, গরুর গাড়ী, রিক্সা, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী দেশী পোশাক পরিহিত বিভিন্ন ধরনের পুতুল, জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনী, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাঙালির আত্মপরিচয় সমৃদ্ধ বইসহ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও আনুষ্ঠানিকতায় মুগ্ধ হন বিদেশী কূটনীতিক ও তাঁদের সহধর্মিনীরা।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর