বাংলাদেশি কমিউনিটির অগ্রযাত্রাসহ নানান ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি

নিউইয়র্ক রাজ্য সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৭, ১৬:৫৯
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্য সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশ ডে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার পৃথকভাবে রেজুলেশন পাশ করে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করা হয়।
 
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অগ্রযাত্রা, নানা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিসহ বাংলাদেশ-আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এবারের অধিবেশনে পুরো মার্চ মাসকেই বাংলাদেশী হেরিটেজ মাস হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি ২৬ মার্চকে বাংলাদেশ ডে হিসেবে রেজুলেশন করা হয়। 
 
নিউইয়র্ক শহর থেকে দেড়শ মাইল দূরে অলবেনির সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশ ডে উদযাপন উপলক্ষে শতাধিক প্রবাসী রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে যোগ দেন। নিউইয়র্ক রাজ্য সিনেটর রুবিন দিয়াজ এবং অ্যাসেম্বেলিম্যান লুইস সেপুলভেদার বিশেষ উদ্যোগে ষষ্ঠবারের মতো অলবেনিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হল। এ উপলক্ষে স্টেট অ্যাসেম্বলি ও সিনেটে বাংলাদেশের ৪৭তম স্বাধীনতা দিবসের ওপর রেজুলেশন গ্রহণ, অভ্যর্থনা সভা, সম্মাননা প্রদানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
 
অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা অ্যাসেম্বলি হাউজে এবং রাজ্য সিনেটর রুবিন ডিয়াজ রাজ্য সিনেটে তা উত্থাপন করেন। বর্ণিল এ আয়োজনে নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের সামনে উড়ল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। অংশগ্রহণকারী সকল বাংলাদেশি দারুণভাবে উপভোগ করেন ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটি। নিউইয়র্কের রাজধানী অলবেনির অনুষ্ঠানস্থল এদিন পরিণত হয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের মিলনমেলায়।
 
স্টেট সিনেট ও এসেম্বলি অধিবেশনের রেজুলেশন দুটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। স্টেট সিনেটের অধিবেশনে বাংলাদেশ ডে'র রেজুলেশন গ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠের পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এসময় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাসহুদ ইকবাল।
 
IMG0
 
এরপর সিনেটর রুবিন দিয়াজ রেজুলেশনটি পাঠ করে শোনানোর পর কয়েকজন সিনেটর এর ওপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশ ডে রেজুলেশন উপস্থাপনকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান সিনেট ও অ্যাসেম্বলি ফ্লোরে এবং অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা হাউজ কক্ষের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন।
 
সিনেট হাউজে রেজুলেশনটি পাশ হওয়ার আগে অ্যাসেম্বলি হাউজের অধিবেশন চলাকালে হাউজে বাংলাদেশ ডে’র রেজুলেশন পাস হয়। অ্যাসেম্বলি হাউজেও পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাসহুদ ইকবাল। এ্যাসেম্বলি হলে রেজুলেশনটি পাঠ করেন অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা। রেজুলেশনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান হয়।
 
স্টেট অ্যাসেম্বলি ও সিনেট হাউজের আনুষ্ঠানিকতার আগে সমাজকর্মে বিশেষ অবদানের জন্য স্টেট সিনেটর রুবিন দিয়াজ অলবেনি হলে বাংলাদেশ ডে কমিটির চেয়ারম্যান ও মূলধারার রাজনীতিক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এন মজুমদার, বাংলাদেশি মালিকানাধীন আমেরিকার স্বনামধন্য আইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিপল এন টেক-এর সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল খালেক, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মাহবুব আলম, পার্কচেস্টার ব্রঙ্কস রিয়লিটির প্রেসিডেন্ট সালেহ উদ্দিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান কাজী মোবাশ্বের আহমেদ হাশিমীকে প্রক্লেমেশন প্রদান করেন।
 
পরে স্টেট অ্য্যাসেম্বলি ও সিনেট হাউজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্টেট সিনেটর রুবিন দিয়াজ ও অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদাসহ ৬ সিনেটর ও অ্যাসেম্বলিম্যান অলবেনি হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মানে এক অভ্যর্থনা সভার আয়োজন করেন। সভায় বাংলাদেশ ডে কমিটির কাছে অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা ও সিনেটর রুবিন দিয়াজ হাউজ দুটিতে পাসকৃত রেজুলেশনের কপি হস্তান্তর করেন।
 
এছাড়া বাংলাদেশ ডে কমিটিভূক্ত ১৩টি সংগঠনকে সাইটেশন প্রদান করা হয়। সাইটেশনপ্রাপ্ত সংগঠনগুলো হচ্ছে,বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটি, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস, বাংলাদেশ-আমেরিকান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ সোসাইটি, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ফেঞ্চুগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন, নর্থ ব্রঙ্কস বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশন, ব্রঙ্কস পূজা কমিটি, বাংলাদেশ-আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশান কমিটি, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ-আমেরিকান উইমেন অ্যাসোসিয়েশন।
 
অনুষ্ঠানে স্টেট সিনেটর রুবিন দিয়াজ, অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদাসহ ১২ জন সিনেটর ও অ্য্যাসেম্বলিম্যান, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ৩২-এর কাউন্সিলম্যান পদপ্রার্থী মূলধারার রাজনীতিক হেলাল আবু শেখ, বিশিষ্ট রাজনীতিক যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা, পিপল এন টেক-এর সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, মামুনস টিউটোরিয়ালের প্রিন্সিপাল শেখ আল মামুন, বাংলাদেশ ডে কমিটির সদস্য আবদুস শহীদ, মাহবুব আলম, শামীম মিয়া, মনজুর চৌধুরী জগলুল, শাহেদ আহমদ, এ ইসলাম মামুন, ফরিদা ইয়াসমিন ও দেবব্রত পোদ্দার, মামুনস টিউটোরিয়ালের পরিচালক ডা. নাহিদ খান, মূলধারার রাজনীতিক দেওয়ান বজলু, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি আবদুর রহিম হাওলাদার, হিউম্যান সাপোর্ট করপোরেশনের সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রবাসী কল্যাণ স¤পাদক মো. সোলায়মান আলী, অ্যাটর্নি প্যারি ডি সিলভার, অ্যাসেম্বলি ডিসট্রিক্ট ৮৭ এর জুডিশিয়াল ডেলিগেট, বাংলাদেশী-আমেরিকান উইমেন অ্যাসোসিয়েশনর প্রেসিডেন্ট রেক্সোনা মজুমদার, মেহেরুন্নেসা জোবায়দা, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, জুনেদ চৌধুরী, আরশাদ আলী, কফিল উদ্দিন চৌধুরী, হারুন আলী, কবি নাসরিন চৌধুরী ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ। অনুষ্ঠাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ডে কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদার।
 
অনুষ্ঠানে স্টেট সিনেটর রুবিন দিয়াজ, অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সিপুলভেদাসহ অন্যান্য সিনেটর ও এ্যাসেম্বলীম্যানগণ তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির অগ্রযাত্রা, নানা ক্ষেত্রে তাদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা সবসময় ইমির্গ্যান্ট তথা বাংলাদেশী কমিউনিটির পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমেরিকার অর্থনীতি, রাজনীতিসহ সবক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সিনেটর ও অ্যাসেম্বলিম্যানরা তাদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ-আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নেও সম্ভাব্য ভূমিকা রাখার কথা বলেন।
 
IMG1
 
শুভেচ্ছা বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলি হাউসে বাংলাদেশ ডে উদযাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্টেট সিনেটর রুবিন দিয়াজ, অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদাসহ সংশ্লিষ্টদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশ-আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক আরো জোরদারে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন।