গ্রিসে একটি স্ট্রবেরি খামারে বকেয়া বেতন চাইতে গিয়ে বাংলাদেশি যে শ্রমিকেরা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, তারা এবার ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছেন।
ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসের মামলায় জয়ী হয়েছেন ওই বাংলাদেশি শ্রমিকেরা।
বাংলাদেশি ৪২ জন শ্রমিকের পক্ষে রায় দিয়ে প্রত্যেককে ১২ হাজার ইউরো থেকে ১৪ হাজার ইউরো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য গ্রিক সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত এক রায়ে বলেছে, মানবপাচারের মতো ঘটনা মোকাবেলায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অধিকারও সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।
২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে গ্রিসের পেলোপন্নেসিয়ান গ্রামের এক স্ট্রবেরি খামারের শ্রমিকেরা তাদের ছয় মাসের বকেয়া বেতনের দাবি জানাতে গেলে সেখানকার একজন সুপারভাইজার তাদের ওপর গুলি চালায়। ওই ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক আহত হন।
IMG0
এরপর খামার মালিক ও সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রিসের আদালত খামার মালিক ও সুপারভাইজারকে নির্দোষ বলে রায় দেয়। এ ছাড়া গ্রিসের ওই আদালত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাওনা বেতন পরিশোধ বা কোনো ক্ষতিপূরণও দেয়নি।
সে কারণেই এরপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষতিপূরণের আশায় দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে মামলা করে শ্রমিকেরা।
গ্রিসের বাংলাদেশ সমিতির প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন তখন জানিয়েছিলেন, ‘ইউরোপিয়ান কনভেনশন অব হিউম্যান রাইটসের একটি অনুচ্ছেদ, যেখানে দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের দায়ে প্রথমবারের মতো গ্রিসের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শ্র্রমিকেরা সবাই মিলে মামলাটি করে। ওই মামলায় নিজেদের পক্ষে রায় পেল ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি শ্রমিকেরা। রায়ের পর বাংলাদেশিরা শ্রমিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’
গ্রিস-বাংলাদেশ বণিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান সিরাজ বলেন, এই রায়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে তার সমুচিত জবাব দেয়া হয়েছে।
IMG1
এই মামলার আইনজীবী ভাসিলিস কেরাসিয়োটিস সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, এই রায়ের ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ হলো। ইউরোপীয় আদালতের এই রায়ের ফলশ্রুতিতে গ্রিক সরকার শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ পেল।
বাংলাদেশ দূতাবাসও মানোলাদার শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। গত এপ্রিল ২০১৫ সালে গ্রিসের পাত্রার আদালতে মামলার শুনানিকালে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন শ্রমিকদের পাশে ছিলেন।
এর পরবর্তীতে দূতাবাস শ্রমিকদের অংশগ্রহণে গ্রিস-বাংলাদেশ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এ সময় গ্রিসের শ্রম মন্ত্রী, ক্রীড়া উপমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, গভর্নর, মেয়রসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ২৮ মার্চ এথেন্সে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অলটারনেট পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ কাত্রোকগালোসও গ্রিসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।বিবিসি
