নারায়ণগঞ্জে জেএমবির শীর্ষ তিন নেতার অন্যতম সহযোগী আলোচিত জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সক্রিয় দুই সদস্য আব্দুর রহমান ওরফে সোহেল ও ফয়সাল আহাম্মেদকে গ্রেফতারের পর তারা র্যাবের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তারা স্বীকার করেছে নারায়ণগঞ্জে একাধিক শ্রেণি-পেশার সঙ্গে মিশে অনেক জিএমবি সদস্য আত্মগোপন করে আছে। র্যাবের তত্পরতার কারণে আপাতত তারা নিশ্চুপ। গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে একাধিক গণমাধ্যম কর্মীসহ অন্তত তিনটি স্থানীয় দৈনিককে নারায়ণগঞ্জ জেএমবি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আর্থিক সহায়তা করে থাকে।
গত মঙ্গলবার ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দুই জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব। গত ৬ এপ্রিল র্যাবের হাতে আটক ৮ জঙ্গির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে নারায়ণগঞ্জে জেএমবির একাধিক সদস্যের অবস্থান রয়েছে। র্যাব সূত্র নিজেরাও স্বীকার করেছে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যবসায়ী জেএমবিকে আর্থিক সহায়তা করে থাকে। এ বিষয়ে একটি মামলা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। একটি পত্রিকা অফিস জেএমবির তথ্য আদান-প্রদানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহূত হলেও এব্যাপারে তথ্য প্রমাণের কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া গত নির্বাচনের পর অসহযোগ আন্দোলনকালে বেশ কয়েকজন জঙ্গি গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের সঙ্গে স্থানীয় পত্রিকার পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার র্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃতরা ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা ছাড়াও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের এমএলএম কোম্পানির সদস্যদের নিকট জঙ্গিবাদী মতবাদ প্রচার করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, নারায়ণগঞ্জে গণমাধ্যমের সঙ্গে মিশে কাজ করতে সুবিধা বেশি। এছাড়া একজন সিনিয়র সাংবাদিক জঙ্গিদের টার্গেট বলে র্যাবের উক্ত কর্মকর্তার কাছে গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা স্বীকার করেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
