টেকসই শান্তি স্থাপন এবং মানবিক উন্নয়নমূলক বিষয়গুলোকে আরো অগ্রসর করতে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশনকে (ডিপিআই) আরো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
বুধবার সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিটি অন ইনফরমেশনের ৩৯তম সেশনে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত ২৪ এপ্রিল ২০১৭ থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আওতাধীন কমিটি অন ইনফরমেশনের ৩৯তম সেশন শুরু হয়েছে। পরবর্তী এক বছর এ কমিটির কাজ চলবে।
বাংলাদেশে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘গত আট বছরে বাংলাদেশ সরকার ৪৪টি টেলিভিশন চ্যানেল, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছে। দেশে নতুন নতুন সংবাদপত্র প্রকাশিত হচ্ছে। অনলাইনসহ স্যোশাল মিডিয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে শক্তিশালী রাখার অন্যতম নিয়ামক।’
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে শান্তি ও অহিংসার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা; যুদ্ধ, সহিংসতা ও বৈশ্বিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ; নিরাপদ ও নিয়মিত অভিগমন, নারী ও শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতা প্রতিরোধ; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পরবর্তী ধাপে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে ডিপিআই ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রচার কৌশলের সর্বোচ্চ ব্যবহারের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ মিশনকে সঙ্গে নিয়ে এ বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ডিপিআই এবং জেনারেল অ্যাসেম্বেলি ও কনফারেন্স ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট যৌথভাবে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করায় স্থায়ী প্রতিনিধি ডিপিআইকে ধন্যবাদ জানান।
রাষ্ট্রদূত মোমেন কমিটি অন ইনফরমেশনে কার্যকর ভূমিকা রাখার মাধ্যমে ডিপিআই-এর কর্মকৌশলকে আরো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ডেলিগেশনের সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
