ভাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জখম, বাড়িঘর ভাঙচুর-মালামাল লুট

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:২৪
 
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের চান্দ্রা গ্রামে শনিবার বিকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ ইন্সপেক্টর আলহাজ্ব সোহরাব হোসেনকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। একই সাথে তার বাড়ির তিনটি ঘর ভাঙচুর করে দামী মালামাল লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
 
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানার ওসি সৈয়দ আব্দুল্লাহ জানায়, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। মুক্তিযোদ্ধার উপর হামলার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।
 
এলাকাবাসী গুরুতর আহত মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রবিবার সকালে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লিটন মাতুব্বর রবিবার দুপুরে ৩০ জনকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
 
আহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানায়, জায়গা জমি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই আমাদের পাশ্ববর্তী বাড়ীর ইসাহাক মাতুব্বরের সাথে মনোমালিন্য ছিল। ঘটনার দিন আমার বাবাকে বাড়িতে একা পেয়ে তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী মুজাহিদ খোকন, বিল্লাল মাতুব্বকে, ইমরান সহ ২০/২৫ জনের একটি দল অর্তকিত আমাদের বাড়ীতে হামলা চালায়। আমার বাবার আর্তচিত্কারে আশপাশের লোকজন রেরিয়ে আসলেও কাউকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেয়নি ওরা। ঘন্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুরসহ দামী মালামাল লুটে নেয় সহ কুপিয়ে আমার বাবাকে গুরুত্বর আহত করে চলে যায়।
 

এদিকে অত্যন্ত বিনয়ী সদালপী মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে জখম করায় ও তার বসত বাড়ী ভাংচুর করে মালামাল লুটে নেওয়ায় ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সহ এলাকাবাসি ক্ষোভে ফেটে পড়ে। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ বাহিনির প্রতি আহবান করেন তারা। ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার আমিনুল ইসলাম বলেন, এলাকার মধ্যে অত্যন্ত বিনয়ী ও সাহসী মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে আহত করল জামাতের রোকন মুজাহিদ আব্দল গফ্ফারের সন্তানেরা। আমি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে জামাত-শিবিরের লোকজন যে দৃষ্টতা দেখিয়েছে তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি কামনা করছি।