নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত

আপডেট : ০২ মে ২০১৭, ১২:৫৯
 
পান্তা-ইলিশ আপ্যায়ন, র‌্যালি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারো বাংলা নববর্ষ উদযাপন করলো নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার সবচেয়ে বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি ইন্ক। শত শত প্রবাসী নারী, পুরুষ ও শিশু স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপভোগ করেন বর্ণাঢ্য এ আয়োজন।
 
IMG0
 
মেলা প্রাঙ্গণে বাংলাদেশি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে বিভিন্ন স্টল। আর খাবারের স্টলগুলোতে ছিল বাংলাদেশের ঐহিত্যবাহী পিঠা-পুলির নানান সমাহার। শিশুদের জন্য মেলায় বসানো হয়েছিল মিনি শিশুপার্ক। সেখানে ছিল বিভিন্ন রাইড। বাড়তি বিনোদনের সুযোগ পেয়ে মেলায় আসা শিশুরা ছিল দারুণ উৎফুল্ল। এসব শিশুদের অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত মনে উপভোগ করেছেন এবারের ‘ইফাদ লোক উৎসব, বৈশাখী মেলা, পিঠা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ১৪২৪।’
 
চমত্কার আবহাওয়া এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় বেলা ১২টার পর থেকে বৈশাখী সাজে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু জড়ো হন জ্যামাইকার ক্যাপ্টেন টিলি পার্কে। সেখানে তাদের আপ্যায়ন করা হয় পান্তা-ইলিশ দিয়ে। শুধু পান্তা-ইলিশই নয়, সঙ্গে ছিল নানান রকম ভর্তা, পেয়াজ-কাঁচা মরিচ, ছিল শুকনা মরিচ ভাজাও। তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে খেয়েছেন সবাই।
 
এর আগে পান্তা-ইলিশ পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু। বৈশাখী র‌্যালির গ্র্যান্ড মার্শাল বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন. মজুমদার, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি, উপদেষ্টা শাহ নেওয়াজ, নাসির আলী খান পল, অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম, ডা. ওয়াজেদ এ খান, মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী, ছদরুন নূর, আবুলফজল দিদারুল ইসলাম, সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আজাদ ভূঁইয়া, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ইফজাল আহমদ চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী রেজাউল করিম চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
পান্তা-ইলিশ পর্ব শেষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী র‌্যালি বের হয়। র‌্যালির সামনের ভাগে ছিল একদল তরুণ ঢুলি। তাদের ঢাকের আওয়াজ এনে দেয় বৈশাখের পূর্ণ আমেজ।
বাঙালি সাজে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশুদের অংশগ্রহণে দারুণ প্রান্তবন্ত র‌্যালিটি জ্যামাইকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ১৬৪ স্ট্রিটের বিশাল পার্কিং লটে গিয়ে শেষ হয়। ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মেলার আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। সূচনা পর্ব পরিচালনা করেন মেলার সমন্বয়কারী রিজু মোহাম্মদ। পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক আশরাফুল হাসান বুলবুল এবং সংবাদ উপস্থাপক ও সাংবাদিক সাদিয়া খন্দকার।
 
রঙ-বেরঙের বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার ও নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিউইমেন এলিসিয়া হাইন্ডম্যানসহ ফ্রেন্ডস সোসাইটির কর্মকর্তা ও অতিথিরা এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন জ্যামাইকার ঐহিত্য শ্রী চিন্ময় সেন্টারের শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিরয় কমরি এবং স্থানীয় কাউন্সিলম্যান ররি ল্যান্সম্যান, হূদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ডা. সিএম হাসান, নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান প্রার্থী হেলাল শেখ, অনুষ্ঠানের প্রধান সমম্বয়কারী রেজাউল করিম চৌধুরী, সিনিয়র নির্বাহী যুগ্ম আহ্বায়ক বিলাল আহমদ চৌধুরী, সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব ইফজাল আহমদ চৌধুরী, অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী ও সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, এএফ মিসবাহউজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আজাদ ভূঁইয়া প্রমুখ।
 
মেলায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সেলিম চৌধুরী, শান্তনীল ধর, মীরা সিনহা, তনিমা হাদী, কৃষ্ণা তিথি, কামরুজ্জামান বকুল, রোকসানা মির্জা, রানু নেওয়াজ, দেবযানী দেবনাথ বর্ষা, মঈন চৌধুরী, উদীপ্ত চৌধুরী এবং স্বরলিপি শিল্পী গোষ্ঠী।
কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয়।