র্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে ৬ জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) দাওয়া শাখার চারজনকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— এবিএম সোহেল-উদ-দৌলা ওরফে সোহেল, আহাদুল ইসলাম সাগর, জগলুল হক মিঠু ও তোয়াসিন রহমান। তারা সিরিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। অপরদিকে আশুলিয়া থেকে ইমরান হোসেন ওরফে এমরান ও রফিকুল ইসলাম রফিককে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির কাছে রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহ করত বলে র্যাব দাবি করেছে। সোমবার দুপুরে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ ও র্যাব এসব তথ্য জানায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দাওয়া শাখার সদস্য। গত রবিবার মতিঝিল এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বিভিন্ন সময় ব্লগার হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। ২০১৪ সালে পলাতক জঙ্গি হাসান ওরফে রেজার মাধ্যমে তারা জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। তারা পরস্পরের সঙ্গে টেলিগ্রাম অ্যাপসসহ বিভিন্ন প্রটেকটিভ মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে। গ্রেফতারকৃত সোহেল এই দলের প্রধান। সে অপর তিনজনকে সিরিয়ায় গিয়ে যুদ্ধ এবং প্রশিক্ষণ নেয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা করছিল। গ্রেফতারকৃতদের ভাষায়, প্রকৃত মুজাহিদের তত্ত্বাবধানে জিহাদ করতে না পারলে প্রকৃত মুজাহিদ হওয়া যায় না। তাই তারা আফগানিস্তান যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আফগানিস্তান যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা সিরিয়ায় যেতে চেষ্টা করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, সিরিয়ায় গিয়ে আল কায়েদার সহযোগী সংগঠন জামাত-আল-নুসরায় যোগ দেওয়া। প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যায়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো জানান, সিরিয়ায় সরাসরি যাওয়া যাবে না যেনে তারা পার্শ্ববর্তী তুরস্কসহ আশপাশের দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সেখান থেকে সিরিয়ায় যাবে। কয়েকটি দেশের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকলে তুরস্কের ভিসা পাওয়া সহজ হবে বলে তারা জানতে পারে। তাই তারা পাসপোর্টে অন্যান্য দেশের ভিসা লাগানোর চেষ্টা করছিল। ইতোমধ্যে তারা ভারত, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার ভিসার আবেদন করেছে। যাতে পর্যটক হিসেবে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যাওয়া যায়। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সোহেল মূলত সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। বাকি তিনজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের সিরিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছিল সোহেল। সোহেল বিদেশে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই দলের আরো কয়েকজন সদস্য পলাতক রয়েছে। তাদের সঙ্গে মেজর (চাকরিচ্যুত) জিয়ার যোগাযোগ আছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্টসহ দুটি বই উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে কাওরানবাজার মিডিয়া সেন্টারে র?্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, রবিবার ঢাকার আশুলিয়া থেকে জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যদের কাছে রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহকারী দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেক দুই বোতল সালফিউরিক অ্যাসিড, পাঁচ প্যাকেট স্প্রিন্টার, বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরির উপযোগী এক কেজি ৬৫০ গ্রাম রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। আরো জানান, গত ১০ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অভিযানে জেএমবির এক নারী সদস্য গ্রেফতার হন। এই নারী সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার হওয়া ইমরান ২০০১ সালে হুজিবিতে যোগ দেন। পরে ময়মনসিংহের বুড়িচরে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৪ সালে জেএমবির প্রতি অনুগত হন তিনি। ইমরান হোসেন জয়দেবপুরের দুটি কেমিক্যাল নির্ভর কারখানায় কাজ করতেন। এ জন্য তিনি কেমিক্যাল সংগ্রহ ও সরবরাহের বৈধ পদ্ধতি জানতেন। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য সংগ্রহ করতেন। এরপর সেগুলো বাহক অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম এলাকায় পাঠাতেন। আটক রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনিও হুজিবির সদস্য ছিলেন। ইমরান ২০১৫ সালে রফিকুলকে প্ররোচিত করে জেএমবিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। গ্রেফতারকৃতরা আরাকানের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে রোহিঙ্গাদের সাথে তাদের যোগাযোগ হয়েছিল কি না এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/নূহু
