কথিত গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

আপডেট : ১৬ মে ২০১৭, ১৯:২৫
কথিত ভারতীয় গুপ্তচর কুলভূষণ যাদভের মৃত্যুদণ্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস) মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে সোমবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে ভারত বলেছে, ইরান থেকে অপহরণের পর ‘প্রহসনমূলক’ বিচারে কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপরদিকে পাকিস্তান বলেছে, কুলভূষণকে বেলুচিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
 
পাকিস্তানকে কুলভূষণ যাদভের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আদেশ দিতে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন জানায় ভারত। ভারতীয় আইনজীবীরা বলেন, পাকিস্তান সরকার কুলভূষণকে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ‘কনস্যুলার এক্সেস’ চেয়ে ভারতের করা ১৬টি অনুরোধ পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করেছে। শুনানিতে ভারতের আইনজীবী দাবি করেছেন, কুলভূষণ গুপ্তচর নয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাতে আটক থাকা অবস্থায় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। 
 
ভারতের আইনজীবী হরিশ সালভে বলেন, আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেই কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি খুব গুরুতর হওয়ায় আমরা এ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। শুনানিতে ভারতের আইনজীবীরা কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা, তার বিরুদ্ধে দেয়া আদেশ কার্যকরে পাকিস্তানকে বিরত রাখা এবং তাকে ছেড়ে দিতে পাকিস্তানকে আদেশ দেয়ার আবেদন জানান।
 
অপরদিকে পাকিস্তানের আইনজীবী বলেন, যাদভের স্বীকারোক্তির দৃশ্যটি দেখলেই বোঝা যাবে তিনি স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকার করেছেন।  পাকিস্তানের আইনজীবী আদালতের প্রতি কুলভূষণের স্বীকারোক্তি শোনার আবেদন জানান। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে এসেছে।
 
IMG0
 
২০১৬ সালের মার্চে বালুচিস্তান থেকে কুলভূষণকে গ্রেফতার করা হয় বলে পাকিস্তানের দাবি। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্রেফতারকৃত কুলভূষণ যাদভ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, তিনি সেখানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে কাজ করছিলেন। পাকিস্তানের সামরিক আদালত গত মাসে ৪৬ বছর বয়সী কুলভূষণকে গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ভারত ৮ মে কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন জানায়। আন্তর্জাতিক আদালতে দাখিলকৃত নথিতে ভারত দাবি করেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর কুলভূষণ ব্যবসা করতেন। ব্যবসার কাজে ইরান গেলে সেখান থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। এএফপি, আল জাজিরা ও এনডিটিভি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির