ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় একটি জেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিক্ষোভরত পাঁচ কৃষক নিহত হওয়ার পরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ঋণ মওকুফ ও উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যুনতম দাম নির্ধারণের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছিল।
মঙ্গলবার ওই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর মধ্যপ্রদেশের মান্দসুর জেলার রাস্তাগুলোতে কয়েক হাজার দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানকার ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভের আয়োজকরা জানান, মঙ্গলবার বিক্ষোভটি সহিংসতায় রূপ নিলে পুলিশ কৃষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মান্দসুরের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এস কে সিং বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে এলে কারফিউ তুলে নেয়া হবে। খরা কবলিত অঞ্চলটির কয়েক হাজার কৃষক সরকারের কাছে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যুনতম দাম নির্ধারণ এবং ব্যাংক ঋণ মওকুফের দাবিতে এ বিক্ষোভ করছে।
ভারতে প্রায় ২৬ কোটি কৃষক ও ক্ষেত মজুর রয়েছে। দেশের জিডিপির ১৭ শতাংশ কৃষি খাত থেকে আসে। কিন্তু সেচের অভাবে ও কয়েক বছর ধরে চলা অনাবৃষ্টিতে এই খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ফসল উৎপাদন না হওয়ায় প্রতি বছর কয়েক হাজার ঋণগ্রস্ত কৃষক পাওনাদারদের ঋণ মেটাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যা করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে কয়েকটি রাজ্যে অনাবৃষ্টির কারণে ফসল ফলেনি তাদের মধ্যে মধ্যপ্রদেশ অন্যতম। উল্লেখ্য, সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মধ্যপ্রদেশে ১ হাজার ছয়শ’র বেশি কৃষক আত্মহত্যা করে। মহারাষ্ট্রের আশপাশের রাজ্যগুলোর কৃষকরাও একই ধরনের বিক্ষোভ করছে। তারা সড়ক অবরোধ করে শহরে তরকারি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে নিত্য প্রয়োজনীয় তরকারির দাম বেড়ে গেছে। এএফপি।
ইত্তেফাক/সাব্বির
