রাজশাহীর বাঘায় এখন সুদিন চলছে ক্ষুদ্র আম ব্যবসায়ীদের । প্রতি আম মৌসুমে এই ব্যবসায় স্বল্প পূঁজি খাটিয়ে উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই লাভবান হন। যার কমতি ঘটেনি এবারও। এর ফলে বর্তমানে তাদের অনেক ব্যস্ত সময় কাটছে।
গ্রামে-গ্রামে ফেরি করে আম ক্রয়, অথবা ক্ষুদ্র পরিসরে দু’একটি চুক্তি ভিত্তিক আম গাছ ক্রয়, এরপর বাজারে এনে আড়ত-এ বিক্রি। এটা তাদের প্রতিদিনের চিত্র। এ সকল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে আমের বাজারও ভালো। তারা বিক্রিও করছেন আশানুরূপ। এতে করে তাদের এখন ভালো সময় কাটছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, রাজশাহীর জেলার কয়েকটি থানার মধ্যে আম প্রধান এলাকা হিসাবে বাঘা ব্যাপক পরিচিত। প্রতি বছরই আমের মৌসুমে অত্র এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আম ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় কাটান। এখানে বড়-বড় ব্যবসায়ীরা চুক্তি মূল্যে বাগান কিনে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে আম চালান করলেও পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা একেবারে বসে থাকে না। তারা আম ফেরি করে গ্রামে গ্রামে ক্রয় করেন। এরপর ছোট বাজার ও স্বল্প পরিসরে নিকটতম শহরে নিয়ে তা বিক্রি করে থাকেন। এ সকল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে আমের বাজার ভালো। এ কারণে তাদের লাভও ভালো হচ্ছে।
আমের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমোদপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস জানালেন, তিনি সাইকেলে করে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে আম ক্রয় করে থাকেন। তার মত এখানে আরো অনেকেই এই ব্যবসা করেন। যারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন এলাকার বাগান মালিক ও বাগান প্রহরীদের বাড়ি-বাড়ি ঘুরে কাঁচা-পাকা আম ক্রয় করেন। এরপর সেগুলো উপজেলা সদর-সহ এর বাইরে পার্শবর্তী বিভিন্ন শহরে নিয়ে বিক্রি করেন। কুদ্দুস জানান, বর্তমানে বাগান মালিকদের বাড়িতে যে আম ৩৫ টাকা। তারা সেই আম-ই বাজারে এনে বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। এমনি ভাবে তিনি প্রতিদিন গড়ে ১০০ কেজির উপরে আম বিক্রি করছেন বলে জানান। এ থেকে তার যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে ভালমত সংসার চলছে।
আরেক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন, তিনি ভ্যানে করে বিভিন্ন গ্রামে আম ক্রয় করে থাকেন। এরপর সেগুলো বাঘা ছাড়াও পুঠিয়া,লালপুর ও ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন। এ থেকে বছরের এই সময় টাতে তার স্বল্প পরিসরে আম কিনে বিক্রি করায় ভাল লাভ হয়ে থাকে। তার মতে, বাঘার আমের সুনাম থাকার কারণে আমের কাটতি হয় ভালো। সামনে আরো দেড়-দুই মাস এই ব্যবসা ভালো চলবে বলে তিনি জানান।
এ প্রসঙ্গে একজন বাগান মালিক আলী আকবর বলেন, অত্র এলাকায় যারা চুক্তি ভিত্তিক আমের বাগান কিনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ট্রাক যোগে আম চালান দেয় তাদেরকে আমরা স্থানীয় ভাষায় আমের ব্যাপারী কিংবা ব্যবসায়ী বলে থাকি। অথচ যারা বাড়ি-বাড়ি ঘুরে স্বল্প পূঁজি খাটিয়ে গাছ থেকে ঝরে পড়া অথবা পাকা আম কিনে হাটে বাজারে বিক্রি করে তাদের বলি হকার। বাস্তব অর্থে এরা হকার না। এরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। একদিন-না একদিন চেষ্টা করলে এরাও বড় ব্যাপারী হতে সক্ষম হবে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, এ উপজেলায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর আম বাগান রয়েছে । প্রতি বছর অত্র অঞ্চলের বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে তারা আর্থিক ভাবে ব্যাপক লাভবান হন। তিনি আম পরিচর্যার জন্য বাগান মালিকদের নানা রকম পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।
ইত্তেফাক/সাব্বির
