‘আমার কলিজা প্রত্যেক দিন আমাকে মোবাইল ফোনে সেহেরির জন্য জাগিয়ে দিত। আমার কলিজা কোথায়? তাকে এনে দাও তোমরা’। কথাগুলো বলতে বলতে একসময় নির্বাক হয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে নিহত সেনা সদস্য সিপাহী শাহীন আলমের শোকাহত মা। মা সেলিনার বুকফাটা কান্নায় চারপাশে ভারী হয়ে ওঠে।
গত মঙ্গলবার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের সময় স্থানীয়দের উদ্ধার তত্পরতা চালাতে এসে সেনা সদস্য শাহীন পাহাড় ধসে নিহত হন।
শাহীন আলম চঞ্চল বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার ধনতলা গ্রামের সারোয়ার হোসেনের একমাত্র পুত্র। অভাবের সংসারে শাহীন ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পান।
শাহীনের বাবা জানান, ২০০৯ সালে শেষের দিকে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলাভান্ডারপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের মেয়ে কনস্টেবল খুরশিদা পারভীনকে বিয়ে করেন শাহীন। তাদের চার বছরের এক ছেলে সন্তানও রয়েছে।
গত বুধবার নসরতপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে হেলিকপ্টারে সেনা সদস্য শাহীনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। পরে ধনতলা আলিম মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
ইত্তেফাক/কেকে
