টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে তিন ফার্নিচার ব্যবসায়ী অপহরণের চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপহরণ হওয়ায় ব্যক্তিদের পরিবার আলাদাভাবে ভূঞাপুর থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার মাটিকাটি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে আব্দুল মান্নান (৩৬), জহুরুল খাঁ (৩৫) ও শমসের ফকিরকে (৩৭) ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজে গেট এলাকা থেকে তাকওয়া ফার্নিচারের দোকান থেকে অপহরণ করা হয়।
গত সোমবার ভোরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী (ডিবি) পরিচয়ে আট/দশ জন অজ্ঞাত লোক মান্নানকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে জানান তার স্ত্রী মিনারা বেগম। এর দুদিন পর গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইবরাহীম খা সরকারি কলেজ গেট সংলগ্ন ফার্নিচারের দোকান থেকে অপহরণ করা হয় জহুরুল খাঁ ও শমসের ফকিরকে।
দোকান কর্মচারী হাবিবুর রহমান জানায়, সাদা মাইক্রোবাস যোগে সাত/আটজন লোক ফার্নিচার বানানোর কথা বলে তাকওয়া ফার্নিচার এর মালিক জহুরুল খাঁ এবং সৌখিন ফার্নিচার থেকে শমসের ফকিরকে দোকান থেকে বের করে আনেন এবং স্যার গাড়িতে আছে বলে তাকে গাড়ির কাছে ডেকে নিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এসময় জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান থানায় যোগাযোগ করার জন্য। অপহরণের হওয়ার পর জহুরুলের শ্বশুর মোমরেজ খাঁ ও শমসের ফকির এর সুরমান ফকির ভূঞাপুর থানায় সাধারণ ডায়রি করেন।
এদিকে ঘটনার তিনদিন পর গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অপহরণ করা দুই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অপহরণ হওয়া শমসের ফকিরের ভাই সুরমান ফকিরে মোবাইলে দুই ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে। এরপর সন্ধ্যায় পুনরায় ফোন টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বর দেয় বলে জানান সুরমান।
অপহরণ হওয়ার কয়েকদিন পেড়িয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে তাদের স্বজনরা। পরিবারের দাবী অপহরণ হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজতে পুলিশ কোন ভূমিকা পালন করছে না।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.কে.এম কাউসার চৌধুরী জানান, স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাব-১২ তে যোগাযোগ করে অপহৃতদের ব্যাপারে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/জামান
