খাগড়াছড়ির রামগড় ও লক্ষীছড়িতে আবারো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। রামগড় উপজেলার নাকাপা ভুদুংছড়া ও লক্ষীছড়ির রাজেন্দ্র কার্বারী পাড়ায় ফের পাহাড় ধসে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো দুইজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেলেও প্রশাসনিক সূত্রগুলো এখবর নিশ্চিত করতে পারেনি।
আজ রবিবার ভোর ৬টার দিকে ভুদুংছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে মাটির গুদামঘর চাপা পড়ে নুর নবী (১৪) ও মো. নূর হোসেন সোহেল (৮) নামে দুইশিশু নিহত হয়েছে। তাদের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন (১৬) আহত হয়। হতাহত তিনজনই ঐ এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তফার ছেলে।
গুদামঘর চাপা পড়ে গোয়ালঘরে থাকা ৫টি গরু-ছাগল ও অন্তত ৫০ মুরগীও মারা যায়। এদিকে জেলার দুর্গম লক্ষীছড়ি উপজেলার লক্ষীছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজেন্দ্র কার্বারি পাড়ায় পাহাড় ধসে মাটি চাপায় ইথন চাকমা (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। আজ সকাল ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি ও রামগড়ে মোট ৫ জনের মৃত্যু হলো।
লক্ষীছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীল চাকমা ইথন চাকমার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় লক্ষীছড়ি সদর ইউনিয়নের কয়েকটি বাড়ি ও মসজিদে পানি ঢুকেছে।
অপরদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে রামগড় পাতাছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-ফেনী-ঢাকা সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকলেও আবার চালু হয়েছে। এছাড়া জেলার জালিয়া পাড়ায় খাগড়াছড়ি- চট্টগ্রাম সড়কের একাংশও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেলে বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যহত হয়।
গত ১২ জুন রাত থেকে এ পর্যন্ত একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানিসহ সড়ক অবকাঠামো এবং সম্পদের ক্ষতি হয়।
ইত্তেফাক/কেকে
