রাঙ্গামাটি মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হচ্ছে শিগগির

আপডেট : ২১ জুন ২০১৭, ১৪:৪১
রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক যান চলাচলের জন্য বৃহস্পতিবার উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগ। তবে পাহাড় ধসে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এই সড়কের ১০০ মিটার ভাঙা অংশে নতুন করে তৈরি করা সড়কটি দিয়ে প্রাথমিকভাবে হালকা যান চলাচল করতে পারবে। চলমান বর্ষা মৌসুমে আরও বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় সড়কটি দিয়ে আপতত ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারলেও একমাসের মধ্যেই সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করে তা সকল ধরনের যান চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদ হোসেন।
 
মঙ্গলবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আফতাব উদ্দিন সড়ক মেরামত কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় মাটি কাটতে কাটতে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে একটি পে-লোডার ভাঙ্গা অংশ পার হয়ে রাঙ্গামাটির দিকে চলে আসতে সক্ষম হয়। এসময় গত সাতদিন কঠোর পরিশ্রমে রত কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটে উঠে।
 
নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন জানান, ভয়াবহ পাহাড় ধসের পরদিনই সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী রাঙ্গামাটি সফরে এসে রাঙ্গামাটি থেকে বর্হিগামী একমাত্র মহাসড়কটিকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ করার নির্দেশ দেন সড়ক বিভাগকে। তার নির্দেশের আলোকে গত এক সপ্তাহ অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক বিভাগ। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা যখন কাজ এক প্রকার গুছিয়ে এনেছিলাম এমনি মুহূর্তে রবিবার ও সোমবার আবারও ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় কেটে বের করা নতুন সড়কটির অনেকটাই আবার ধসে পড়ে। তবে এবার কৌশল পরিবর্তন করায় আর ধসে পড়ার তেমন কোনো আশঙ্কা থাকছে না বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
 
এমদাদ হোসেনের মতে বুধবার পুরোদিন কাজ করা গেলে বৃহস্পতিবার থেকে সড়কটি দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে। তিনি জানান, পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করতে আমরা ৫টি পে-লোডার, ২টি এক্সেভেটর ও ৮টি ডাম্পিং ট্রাক দিয়ে অবিরাম কাজ করছি। এরমধ্যে ৩টি পেলোডারসহ ২টি এক্সেভেটর ও ৮ ডাম্প ট্রাকই সাপছড়ির ওই ভাঙ্গা অংশে কাজ করছে। এ ছাড়া ঘাগড়া চন্দ্রঘোনা সড়কে একটি এবং রাঙামাটি খাগড়াছড়ি সড়কে একটি পে-লোডার মাটি ও জঞ্জাল অপসারণের কাজ করছে। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এ কাজে ইসিবিও আমাদের যন্ত্রপাতিসহ সহায়তা করছে।
 
গত মঙ্গলবার নজির বিহীন পাহাড় ধস বিপর্যয়ে ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সর্বমোট অন্তত ছয়টি স্থানে পাহাড় ধস হয় এবং মূল পেভমেন্ট ও সোল্ডার ধসে পড়ে অন্তত আটটি স্থানে। এতে এই সড়কের ৪৯৫ মিটার সড়ক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জায়গাগুলো হলো মানিকছড়ি, সাপছড়ি, মগাছড়ি, কাশখালী, কলাবাগান, ফুরোমোন ও শালবাগান এলাকায়।
 
রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের অধীনে বর্তমানে ২৪২ কিলোমিটার দূরত্বের সাতটি সড়ক রয়েছে। পাহাড় ধসে এইসব সড়কের ১৪৫টি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩৭টি স্থানে সড়ক ধসে গেছে। জাতীয় মহাসড়কটির (রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক) দুটি অংশে সড়কের অস্তিত্বই নেই। এছাড়া কয়েকটি স্থানে পভমেন্ট ও সোল্ডার ধসে পড়েছে (রাস্তার পাশ থেকে মাটি নেমে গেছে)। রাঙ্গামাটি থেকে সাপছড়ি পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় দেখা গেছে, অন্তত ৪০টি স্থানে সড়কের ওপর পাশের পাহাড় ভেঙে পড়েছে। ২২টি স্থানে প্রধান সড়কটিতে বড় বড় ফাটল রয়েছে। কিছু অংশ পড়েও গেছে। 
সড়কের সাপছড়ি এলাকায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া দেড়’শ মিটার সড়ক ধ্বংস হওয়ার মাত্র দুই কিলোমিটার পরেও প্রায় একই চিত্র দেখা যায়। সড়কের এক পাশ নেই। মাটি পড়ে স্তূপ হয়ে রয়েছে সড়কজুড়ে। সেখানে তিনটি বুলডোজার ও একটি এক্সভেটর দিয়ে সড়কের মেরামতকাজ করছিলেন সওজের প্রকৌশলী ও শ্রমিকেরা। অন্তত ১০টি স্থানে ১০০ মিটার করে অংশ মাটি পড়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে বলে তাঁরা জানান। বাসস।
 
ইত্তেফাক/এমআই