টাঙ্গাইলের সখীপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘গোশত সমিতি’। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে এ ধরনের শতশত সমিতি গড়ে উঠেছে। সারা বছর অল্প অল্প সঞ্চয় করে ঈদের আগে পশু কিনে জবাই করে গোশত ভাগ করে নেন সমিতির সদস্যরা। এটি ঈদে তাঁদের বাড়তি আনন্দ দেয়, আর্থিক চাপ কমে যায়।
সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সমিতির সংখ্যা পাঁচশ’র মতো হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এ ধরনের সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত থাকেন। তাঁরা প্রত্যেকে প্রতি সপ্তাহে বা মাসে নির্ধারিত হারে চাঁদা বা সঞ্চয় জমা দেন। পরে জমা করা টাকায় ঈদের দু-এক দিন আগে গরু বা ছাগল কিনে এনে জবাই করে গোশত ভাগ করে নেন। ওই গরু বা ছাগলের চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে প্রাথমিক তহবিল করে শুরু হয় পরের বছরের জন্য সমিতির কার্যক্রম। শুরুতে শুধু নিম্নবিত্তের লোকেরা এ ধরনের সমিতি করলেও এখন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরাও সমিতি করছেন।
উপজেলার কুতুবপুর শাপলাপাড়া এলাকায় এ ধরনের একটি সমিতি গঠন করেছিলেন কালিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কদ্দুছ মাখন। তিনি জানান, তাদের সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০, প্রত্যেকে সপ্তাহের সোমবারে ৫০ টাকা করে জমা দিতেন। এখন সমিতির সদস্য দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। শাপলাপাড়া, ফকিরটোন ও রাগামারি তিনটি গ্রাম মিলে গঠিত সমিতি। তিন গ্রামের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে সমিতির নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসএফআর’ সমিতি। সমিতিতে এখন দুই লক্ষাধিক টাকা জমা হয়েছে। তারা ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকায় একটি ষাঁড় গরু কিনেছেন। ঈদের নামাজ শেষে ওই দিন ষাঁড় জবাই করে প্রত্যেকেই গোশত ভাগ করে নেবেন। শনি ও রবিবার অনেক এলাকার সমিতির সদস্যরা গরু কিনে এনে জবাই করে গোশত ভাগ করে নিয়েছেন।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী এ ধরনের একটি সমিতি গঠন করেছেন। এতে প্রতি ঈদে নিজেদের পছন্দের সুস্থ-সবল গরু কিনে এনে ভালো গোশত নিতে পারছেন।
গৃহিণী মনোয়ারা বেগম জানান, ঈদে পরিবারের সবার জন্য নতুন জামা কাপড় কিনতে অনেক টাকা লেগে যায়। আর ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়নে অনেক গোশত লাগে। সমিতি করলে অনায়াসে ১০-১২ কেজি গোস্ত পাওয়া যায়। সমিতিতে সাপ্তাহিক কিস্তি দেওয়ায় গোস্তের খরচটাও গায়ে লাগে না।
ইত্তেফাক/এমআর
