মেঘনায় ৪ জেলে অপহৃত

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৭, ২৩:৫৪

মনপুরার চরপাতালিয়া সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ১টি ট্রলারসহ ৪ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জলদস্যু বাহিনী ২৮ জুন বুধবার ভোররাতে মেঘনায় ইলিশ ধরা অবস্থায় জেলেদের অপহরণ করে।

অপহৃত মাঝিদের ও ট্রলারটি ছাড়িয়ে আনতে জলদস্যু বাহিনী ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। বিষয়টি ট্রলার মালিক ও পরিবার সুত্রে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে মনপুরা থানা অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জেলেদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনকে এখনও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

সরজমিনে সাকুচিয়ার জনতা ঘাটে এস আই হাদিস এর নের্তৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাটি তদন্ত করছেন। অপহৃত জেলেদের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।

ঈদের পরই জলদস্যুরা আবারও মেঘনায় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। জলদস্যুরা জেলেদের মারধর করে  হামলা চালায়। জলদস্যুরা জেলেদের অপহরণ করায় জেলেদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। মেঘনায় ইলিশ মাছ ধরতে জেলেরা সাহস পাচ্ছে না। জলদস্যুদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।

জানা গেছে, জলদস্যুরা মাঝিদের একটি কার্ড দেয়। যেসব জেলে কার্ড সংগ্রহ করে  মাছ ধরে তাদের অপহরণ বা তাদের ওপর হামলা করা হয় না। কার্ড প্রতি ট্রলার থেকে মাসিক একটা টাকা আদায় করে জলদস্যুরা।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত ১১ টায় অপহৃত মাঝি ও ট্রলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলে সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনকার ন্যায় খলিল মাঝি ও নেজু মাঝি মনপুরার চরপাতালিয়া  সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার জন্য জাল ফেলেন। জলদস্যুরা আগে থেকে ওত পেতে ছিলো। তারা ১০/১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেলেদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তারা জেলেদের জিম্মি করে খলিল মাঝির ট্রলারসহ সহকারী মাঝি কামাল, ইঞ্জিনচালক বাতেন মেস্তরী,বাবুর্চি মোঃ জাহের  এবং অপর ট্রলার থেকে নেজু মাঝিকে অপহৃত করে নিয়ে যায়। ট্রলারের মালিক খলিল মাঝিসহ ১০ জনকে অপর একটি রফিক মাঝির ট্রলারে নামিয়ে দিয়ে যায় জলদস্যুরা। খলিল মাঝিকে একটি গোপন নাম্বর দিয়ে যায় জলদস্যুরা। মুক্তিপনের বিনিময়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনার জন্য বলেন জলদস্যু বাহিনী।

ট্রলারের মালিক খলিল মাঝির সঙ্গে কথা হয় সাকুচিয়ার জনতা ঘাটে। তিনি বলেন, আমিসহ ১৩জন আমার ট্রলারে ছিলাম। হঠাৎ একটি ফিসিং বোট এসে আমাদের বোটের সঙ্গে ট্রলার চাপিয়ে বন্দুক তাক করে আমার মাছ ধরা ট্রলারে উঠে যায়। আমার জেলেদের মারধর করতে থাকে। আমার ট্রলারের ৩ জনকে জলদস্যুরা ট্রলারসহ নিয়ে যায়। আদেরকে রফিক মাঝির ট্রলারে নামিয়ে দেয়। রফিক মাঝি কার্ড দেখালে তাকে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে ৪নং দক্ষিন সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অলিউল্যাহ কাজল বলেন, হাতিয়ার জলদস্যুরা আমার এলাকার ১টি মাছধরা ফিসিংবোটসহ ৪ জেলেকে চরপাতালিয়া সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ধরে নিয়ে যায়। এখনও তাদেরকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুক্তিপনের বিনিময়ে জেলেদের ছাড়িয়ে আনার জন্য বলেছেন জলদস্যু বাহিনী ।
এ ব্যাপারে মনপুরা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহীন খান এ প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাটি আমার এলাকায় ঘটেনি। এটি হাতিয়ার সীমানায় হয়েছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে হাতিয়া জোনের কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে মোবাইলে। তবে কার সঙ্গে কথা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে নিজের নামটি বলতেও রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিবেন বলে জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/নূহু