মোহাম্মদ রবিউল করিমের বাবা আব্দুল মালেক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরিরত অবস্থায় ২০০৬ সালে ৪৫ বছর বয়সে মারা যান। বাবার অকাল মৃত্যুতে গোটা পরিবার পড়ে যায় বিপাকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স করে ৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন।
রবিউলের চাকরি হওয়ার পর পরিবারটি খানিকটা ঘুরে দাঁড়ায়। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনারের (এসি) দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। গত বছরের এক জুলাই রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। রবিউলের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও সঙ্কটে পড়ে। কেননা রবিউলই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
একটি বছর পেরিয়ে গেল। কেমন আছে তার পরিবার। রবিউলের গ্রামের মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রামে কথা হয় নিহত রবিউলের স্ত্রী উম্মে সলমা, আট বছরের ছেলে সাজিদুল করিম সামি, ছোট মেয়ে কামরুন্নাহার রায়না, ছোট ভাই সামসুজ্জামান সামস এবং মা করিমুন নেছার সাথে।
রবিউলের মা বলেন, রবিউলের মৃত্যুর পর সরকারিভাবে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তা ব্যাংকে জমা আছে। ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ইন্টারেস্ট থেকে যা পাচ্ছি তাতে সংসার কোনরকমে চলে যাচ্ছে। ছোট ছেলে শামসুজ্জামান শামস ও রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমার একটি চাকুরী হলেই বেচে যাই। তিনি বলেন, 'তার ছোট ছেলে সামসুজ্জামান সামস উচ্চ শিক্ষিত। সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স (৩৫তম ব্যাচ) সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে, রবিউলের স্ত্রী সাভার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশে অনার্স ও মাস্টার্স করেছে।'
তিনি জানান, তার সন্তান রবিউল দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে। কাজেই সরকারের উচিৎ তার স্ত্রী ও ছোট ভাইকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমাকে সেখানে প্রথম শ্রেণির একটি পদে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিল। ভিসি বলেছিলেন, 'গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের মধ্যে হবে। কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হলেও তার চাকরি এখনও হয়নি।' বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও আশ্বাস দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন উম্মে সালমা।
উম্মে সালমা বলেন, আট বছরের পুত্র সামি ও ১১ মাসের কন্যা রাইয়ানকে বাবার আদর্শে গড়ে তুলতে চান। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, 'তার সন্তানরা ভালো মানুষ হোক-এটাই তার প্রত্যাশা। যেমনটি প্রত্যাশা ছিল তাদের বাবা রবিউলের। রবিউলের ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, 'ভাই মারা যাওয়ার পর ভাবী ভাইয়ের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে আছেন। দিনের সবটা সময়ই ভাইকে আগলে রাখছেন তিনি। ভাবীকে যদি কোন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করানো যেত তবে ভাইয়ের স্মৃতিগুলোকে ভুলে থাকার সুযোগ তৈরি হতো। আবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি ও আত্ম-নির্ভরশীল হওয়ার জন্য তার একটি চাকরির বিশেষ দরকার।'
ইত্তেফাক/জামান
