ঈদের রেশ কাটেনি নৌপথ-মহাসড়কে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৭, ০১:৪৪

গত সপ্তাহের রবি থেকে মঙ্গলবার তিন দিন ঈদের ছুটি থাকলেও কার্যত চাকরি ও ব্যবসায়ীদের ঈদের ছুটি কেটেছে টানা ১০দিন। গত ২৮ জুন সকল অফিস-আদালত খোলা থাকার পরও অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মের উদ্দেশ্যে ফিরতে শুরু করেছেন শুক্রবার থেকে। আবার রবিবার অফিসে যোগদান করাকে সামনে রেখে অনেকে রওয়ানা হয়েছেন শনিবার। তবে এখনো ঈদের রেশ কাটেনি মহাসড়কে। পরিবহন সংকটসহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকামুখী যাত্রীদের। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

মাগুরা: আন্তঃজেলা গাড়িগুলোতে মাগুরার জন্য পর্যাপ্ত আসন না থাকার সুযোগে মাগুরা থেকে রাজবাড়ীর আরিচা ঘাট পর্যন্ত ফিটনেস বিহীন মুড়ির টিন জাতীয় প্রায় ২০টি বাস চলাচল করছে। দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া এসব বাসের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতারও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

ঈদে বাড়িতে এসে বিড়ম্বনায় পড়া যাত্রীদের মধ্যে মো. জহির রায়হান অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে মাগুরা থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য পরিবহন বাসে টিকিট না পেয়ে আরিচায় যাওয়ার জন্য ১শ টাকার জায়গায় ২শ টাকা ভাড়া দিয়ে একটি গাড়িতে ওঠেন তিনি। কিন্তু ভেতরে ঢুকে দেখতে পান গাড়িটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। উপর থেকে গাড়িতে কিছুটা রং করা থাকলেও ভেতরে একেবারেই যাচ্ছেতাই। সিটগুলি ভাঙা, সিটে গদি নেই, প্রচণ্ড শব্দে লক্কড়ঝক্কড় গাড়িগুলোর চলা দেখলেই বোঝা যায়, এর কোনো ফিটনেস নেই। এ অবস্থায় জীবন হাতে নিয়ে  আরিচা যান তিনি।

চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা): ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পরিবহন সংকটে পড়েছেন অনেক যাত্রী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাননি। কেউ বা দুই থেকে চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বাসের সিট খালি না থাকা সত্বেও কর্মের তাগিদে দ্বিগুণ ভাড়ায় দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের পদুয়ার বাজার, ময়নামতি, চান্দিনা, মাধাইয়া, ইলিয়টগঞ্জ, গৌরীপুর বাস স্টেশন ও দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় যাত্রীদের এমন ভোগান্তি দেখা গেছে।

কাউখালী (পিরোজপুর): ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতে মানুষের ভিড় বেড়েছে কাউখালী স্টিমার ও লঞ্চ ঘাটে। শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত স্টিমার ও লঞ্চে যাত্রীদের বাড়তি চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে দুর্ভোগও চরমে উঠে। লঞ্চ-স্টিমারে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। কাউখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া টিপু-০, রাজদূত-৭, ফারহান-৯, মহারাজ-৭ ও মানিক-১ লঞ্চে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। এসব ঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী ও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে কাউখালী ঘাট ত্যাগ করে লঞ্চগুলো। এরপরও রয়েছে  ছোট-বড় ১০ থেকে ১২টি লঞ্চ ঘাট।

ইত্তেফাক/নূহু