ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৭, ১০:০১
 
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু জাতীয় মহাসড়কে যানজট দেখা দিয়েছে। ফলে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গতকাল রবিবার দিবাগত রাত থেকে কখনো একবারে আবার কখনো থেমে থেমে চলছে এই যানজট। আজ সোমবার মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে যানজট।
 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে চলছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুরবস্থা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরে প্রায় ৬০ কি. মি. এলাকায় যানজট এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ঈদে বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকার পর গত শনিবার থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। টাঙ্গাইল থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের সময় গুনতে হচ্ছে ১০-১৫ ঘণ্টা। কোন কোন  ক্ষেত্রে আরও বেশী সময় লাগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কবে নাগাদ এই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি শেষ হবে তা কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারছেন না।
 
তীব্র যানজট থাকায় এ রোডে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। যানজটের মুল কারণ চন্দ্রা, কোনাবাড়ি, ও চৌরাস্তায় তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ, ধেরুয়া ও কালিয়াকৈরে দুইটি রেল অভার ব্রিজ, ১০টি ভাঙ্গাচোরা ব্রিজ, রাস্তায় ছোট বড় গর্ত, দুই পাশে কাদা  এবং মহাসড়ক দেখা শোনার কাজে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ চার লেন কাজে নিয়োজিত দুই কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব। চন্দ্রা-নবীনগর, চন্দ্রা-গাজীপুর-চৌরাস্তা, বাইপাইল-উত্তরা রাস্তাও ভয়াবহ যানজট।
 
এছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলায় মহাসড়ক এখন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে চন্দ্রা এলাকায় রাজধানী ঢাকা যাওয়ার মুল প্রবেশদার চন্দ্র-নবীনগর-ঢাকা রোড ও গাজীপুর রোডে যানবাহন ঠিকমত ঢুকতে না পারায় যানজটের অন্যতম কারণ বলে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ জানিয়েছেন।
 
পুলিশ সূত্র আরো জানায়, গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট শুরু হয়। ঈদে যানবাহনের প্রচুর চাপ হওয়ায় মহাসড়কের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে যানজট শুরু হয়। মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, ক্যাডেট কলেজ, বোর্ডঘর, কালিয়াকৈর, ও চন্দ্রা এলাকা থেকে এই যানজট শুরু হয়। এই যানজটের ফলে গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত এই ৬০ কি. মি. এলাকায় তীব্র যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে যানজটে আটকে থাকা এ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী, নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
 
উত্তরাঞ্চলের ২২ টি জেলার যানবাহন এবং টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার যানবাহন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। কয়েকজন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক অভিযোগ করেন, এ মহাসড়কের যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজের জন্য। চার লেনের কাজ করার জন্য মীর আক্তার হোসেন জেবি ও আব্দুল মোনায়েম কোম্পানি কাজ শুরু করেন ২০১৫ সালে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এবং মহাসড়কের দুই পাশে ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলার কারণেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার এ মহাসড়কে যানজট সৃষ্টির অধিকাংশ কারণ যানবাহনের অদক্ষ চালক। একটু জাম হলেই আগে যাওয়ার জন্য চালকরা লাইন ছেড়ে অন্য লাইনে যাওয়ার চেষ্টা করে।ফলে শুরু হয় দুই দিক থেকেই যানজট।
 
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, যানজটের মুল কারণ এ মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে পাকুল্যা পর্যন্ত ৮-১০টি ভাঙ্গাচোরা ব্রিজ এবং ভাঙ্গা রাস্তা। এছাড়া চার লেনের কাজ হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং চারলেনের কাজে নিয়োজিত দুইটি কোম্পানির মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাবে এ রোডে প্রতিনিয়তই যানজট হচ্ছে।ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু যানজট মুক্ত রাখার দাবী জানিয়ে এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে ইতিপূর্বে একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে।যানজট মুক্ত রাখার জন্য টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এমআর