রাজশাহীতে একমাসে হত্যা ও আত্মহত্যা ৯, ধর্ষিত ৬

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৭, ১৪:০৮
 
রাজশাহী অঞ্চলে গত এক মাসে হত্যা, আত্মহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২৪ নারী ও শিশু। এর মধ্যে ১১ জন নারী ও বাকীরা শিশু নির্যাতনের শিকার। চলতি মাসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে দুইটি ও আত্মহত্যা করেছেন সাত নারী ও শিশু। আর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ছয় নারী ও শিশু। আজ সোমবার উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ারের (লফস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি বিভিন্ন মাত্রায় অবনতি ঘটছে। যৌতুক ও পরকীয়ার কারণে অধিকাংশ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। অনেক  ক্ষেত্রে বিদেশি কিছু টিভি সিরিয়াল পরকীয়াকে উৎসাহিত করছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও প্রেম ঘটিত কারণে হত্যা-আত্মহত্যা ও অমানবিক নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটছে।
 
নগরীর মতিহার চক কাশিনাথপুর থানার ২২ বছরের নারী অন্তঃসত্ত্বা ও প্রতারণার শিকার, বাঘা উপজেলার হিজল পল্লি ফরাজিপাড়া এক গৃহবধূকে স্বামীর নির্যাতনে মৃত্যু, একই উপজেলায় বিধবা এক নারীকে স্বামীর পরিবার কর্তৃক গাছের বেঁধে নির্যাতন, বাঘা উপজেলায় সরেণহাট গ্রামে ১৭ বছরের পুথির আত্মহত্যা, তানোর উপজেলায় কয়েলহাট গ্রামের এক স্কুলছাত্রী অপহরণ, পবার পারিলা গ্রামে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ, দূর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়ায় এক মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক শিশু বলাৎকার, তানোর বড়পুকুড়িয়ার হঠাৎপাড়া গ্রামের মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে ১২ বছরের এক শিশুকে বন্ধুরা চাকু ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে, একই উপজেলায় পাচন্দর গ্রামের ১৯ বছরের এক অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং নগরীর পান্তাপাড়ায় ১৫ বছরের এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
 
লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভিন বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না এমনটাই বাস্তবতা। রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য হতাশাজনক। রাজশাহী অঞ্চলে নারী-শিশু নির্যাতনসহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। লফস সকল নারী শিশু নির্যাতন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
 
ইত্তেফাক/এমআর