চারদিন ধরে চলা ভারী বর্ষায় আবারো কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে পড়ায় বাকঁখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পাহাড় ধস ও ঢলের পানিতে পড়ে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ অবস্থার কারণে জেলার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে করে শত শত ঘরবাড়ি পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ বেড়েই চলছে বলে দাবি করেছেন জনপ্রতিনিধিরা। আর এসব এলাকাকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সাধারণ লোকজন। এদিকে সদর উপজেলার ইসলামাবাদে ঢলের পানি দেখতে এসে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে উম্মে ছালমা (৭) নামে এক নূরানি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া মহেশখালীতে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে মো. মোনার আলম (৩৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পৃথক ঘটনা দুটি ঘটে।
অপরদিকে জেলায় টানা ভারী বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সোমবার বিকেল থেকে বিভিন্নস্থানে ছোট পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। দিনরাত থেমে থেমে চলা হালকা থেকে মাঝারি ধরণের এ বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়গুলোতে এখন বড় ধরণের ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর ভারী বর্ষা অব্যাহত থাকলে যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় গত চারদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এরই মাঝে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ছোট ছোট পাহাড় ধস। এরেই মধ্যে মহেশখালীতে পাহাড় ধসে মো. মোনার আলম নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সোমবার শহরের ঘোনারপাড়া, বৈদ্যঘোনা, কলাতলী, পাহাড়তলি, শহরতলীর দরিয়ানগর, কলাতলী, ইসলামনগর, লারপাড়া, সদরের ঝিলংজা, পিএমখালী, ঈদগাঁও, ভারুয়াখালী, রামুর খুনিয়াপালং, কাউয়ারখোপ, রশিদনগর, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, গর্জনীয়া, মহেশখালীর ছোট মহেশখালী, কালামারছড়া ও শাপলাপুর, চকরিয়ার ডুলাহাজারা, খুটাখালী, মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, উখিয়ার জালিয়াপালং, ইনানী, কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, হোয়াইক্যং ও হ্নীলাসহ বিভিন্নস্থানে ছোট পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, 'ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে বার বার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরপরও কেউ সরে না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে এ কাজে বিঘ্ন ঘটছে বলে জনগণকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার শহরের ছোটবড় ১২টি সরকারি পাহাড়ে অবৈধভাবে তৈরি হয়েছে ১২ হাজার বসতবাড়ি। এতে বসবাস করছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ। প্রভাবশালীরা সরকারি জমির দখলিস্বত্ব ঠিক রাখতে ভাসমান লোকজনকে ওই সমস্ত ঘরবাড়িতে রাখছে। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধস ও প্রাণহানি রোধে এসব ঘরবাড়ি দ্রুত উচ্ছেদ প্রয়োজন মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেফাক/জামান
