রাজবাড়ীতে ২০টি সিনেমা হলের মধ্যে ১৮টি বন্ধ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৭, ০২:৪৪

অস্তিত্ব সংকটে রাজবাড়ীর সিনেমা হলগুলো। জেলার ২০টি সিনেমা হলের মধ্যে ১৮টি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া অনেক সিনেমা হল ভেঙে ফেলে গড়ে তোলা হয়েছে বিপণি বিতান বা গোডাউন। সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় পর্দায় দেশীয় চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই জেলার নতুন প্রজন্মের বিনোদনপ্রেমী মানুষেরা।

জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় গোধূলি, মনোরমা, মুন, রাজবাড়ী সদর উপজেলায় চিত্রা, বসুন্ধরা, বনানী, সাধনা  হোসেনবাগ, টাউন হল, বালিয়াকান্দি উপজেলায় অনিক, মধুমতি, ললিতা, সাধনা, শ্যামলী, স্বর্ণালী, কালুখালী উপজেলায় অনিল, বৈশাখী, পাংশা উপজেলায় নূপুর, তাজ, চন্দনা নামে  মোট ২০টি সিনেমা হল ছিল।

বর্তমানে রাজবাড়ীর সদরে বসুন্ধরা ও সাধনা নামে দুইটি সিনেমা হল থাকলেও তা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। কালুখালী উপজেলার বৈশাখী সিনেমা হল দর্শকশূন্যতা ও লোকসানের কারণে মাঝে মাঝেই বন্ধ থাকে। পাংশা, বালিয়াকান্দি ও গোয়ালন্দ উপজেলার সবকয়টি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে  গেছে।

জেলার সিনেমা হলগুলোতে কর্মরত অনেকেই জানান, সিনেমা হলে দর্শক না হওয়ায় ও অশ্লীল চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হওয়ায় পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন হল মালিকেরা। আর সিনেমা হলের শ্রমিকরা কাজ হারিয়ে জীবিকার প্রয়োজনে অন্য পেশায় চলে গেছেন। জেলায় যে তিনটি সিনেমা হল চালু রয়েছে সেগুলোও যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

পাংশায় বন্ধ হয়ে যাওয়া চন্দনা সিনেমা হলের ম্যানেজার গুলজার হোসেন বলেন, মানসম্মত ও রুচিশীল ছবির অভাবে দর্শকরা হলে আসতে চায় না। পাইরেসি ও অশ্লীলতাও এর একটি বড় কারণ। এক সময় পরিবারের সবাই হলে এসে সিনেমা দেখতো।

তিনি আরও বলেন, নতুন ছবি সিনেমা হলে মুক্তি পেলেই মনে হত বিনোদনপ্রেমী মানুষের মনে ঈদের আনন্দ বইছে। নতুন সিনেমা প্রদর্শনের পূর্বে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে যেতো বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, রাস্তার পাশের দেওয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থান। এছাড়াও শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মাইক দিয়ে প্রচারণায় মুখর থাকতো। যা আজ শুধুই স্মৃতি।

ইত্তেফাক/নূহু