মুকসুদপুরে খেলার মাঠের সরকারি জায়গা বিক্রি!

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৭, ০২:৪৬

মুকসুদপুরে খেলার মাঠের সরকারি জায়গা বিক্রির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ জলিরপাড় গ্রামের যুব ক্রীড়া সংঘের মাঠ পরিচালনা কমিটির একটি অংশ এ জায়গা বিক্রি করেছে। এদিকে এর প্রতিবাদ করায় মাঠ পরিচালনা কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক মুকুল বাক্চীকে সোমবার সন্ধ্যায় জলিরপাড় বাজারে মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিত্য বাক্চীর সমর্থক অশোক বাক্চীর লোকজন মারপিট করে। এ ব্যাপারে মুকুল বাক্চী মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

দক্ষিণ জলিরপাড়া যুব ক্রীড়া সংঘ খেলার মাঠ কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক মুকুল বাক্চী অভিযোগ করেন, মাঠ সংলগ্ন বাসিন্দা বাদল হালদার সরকারের কাছ থেকে দুই শতাংশ জায়গা ইজারা নিয়ে ১০ শতাংশ ভোগদখল করছিলেন। ওই জায়গা তিনি সাত লাখ টাকার বিনিময়ে প্রদীপ দত্তকে দখল বুঝিয়ে দেন। প্রদীপ ওই জায়গাটিকে আরো সম্প্রসারিত করতে মাঠ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিত্য বাক্চীর কাছে মাঠের ক্লাব ঘরের জায়গা কেনার প্রস্তাব করেন। প্রদীপ জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র বৈরাগীর মাধ্যমে দেন দরবার করে ওই জায়গা ৬০ হাজার টাকায় বিক্রির সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তারা প্রদীপের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা অগ্রিম গ্রহণ করেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আমরা মাঠ রক্ষায় ইউনিয়নব্যাপী মাইকিং করি। ইউনিয়নের লোকজন সংগঠিত হয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিত্য বাক্চীর সমর্থক আশোক বাক্চী তার লোকজন নিয়ে আমাকে মারপিট করে।

মাঠ পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি স্বপন বৈদ্য বলেন, শতবর্ষী খেলার মাঠের জায়গা বিক্রিকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছি।

মাঠের জায়গার ক্রেতা প্রদীপ দত্ত বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দেন দরবার করে ৬০ হাজার টাকায় ওই জায়গা কিনেছি। এর মধ্যে ৩৫ হাজার টাকা চেয়ারম্যানকে অগ্রিম দিয়েছি।

অপরদিকে জলিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র বৈরাগী বলেন, ক্লাবের জায়গা প্রদীপকে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদেরকে জায়গা দিতে মানা করে দিয়েছি। এ ব্যাপারে প্রদীপ আমাকে কোনো টাকা দেয়নি।

মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহ জালাল বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কাজ দ্রুত শুরু করবো। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু