ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর, নাসিরনগর ও বাঞ্ছারামপুরসহ হাওর বেষ্টিত অঞ্চল গুলোতে এই ভরা বর্ষা মৌসুমে পানিতে থৈ থৈ করলেও হাওরে মাছ নেই বললেই চলে। যেখানে পাঁচ থেকে সাত জন জেলে নৌকা প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকার মাছ পেত কয়েকবছর সেখানে এখন হাওর অঞ্চলের জেলেরা সন্ধ্যার পর মাঝ রাত পর্যন্ত টানাজাল, বেড়জাল পানিতে ফেলে দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মাছ পাচ্ছেনা।
‘দাদা হাওরে পানি আছে মাছ নেই আর ওহন আগের মত জাতের মাছও পাইনা কেচকি, টিতপুটি আর ছোট পোনা ছাড়া আর কিছু নাই পানিতে। এডাও কোনদিন পাই আবার খালি ডুলা লইয়া বাড়িতে ফিরত আই’ এভাবে আবেগ নিয়ে কথা গুলো বলছিলেন সরাইল এলাকার কয়েকজন জেলে যারা নাসিরনগর আকাশী বিলে রাত জেগে মাছ ধরেন। তারা বলেন এখন জনপ্রতি দুইশত টাকার মাছও পাওয়া যায়না। আগের কোন ভাল জাতের মাছ এখন পানিতে নেই।
নবীনগরের হাওরে মাছ ধরেন কথা হয় এমন কয়েকজনের সঙ্গে তারা বলেন, সারাদিন হাওরে-বিলে মাছ মাইরা পেডের কালা দূর হয়না।আগে বিলে বর্ষার পানিতে রুই, কাতলা, বোয়াল, কালিভাউসসহ অনেক রকমের মাছ পাওয়া যেত বর্তমানে ইছাপুনা, ছোট পুঁটি আর চান্দার গুড়া ছাড়া কিছুই পাইনা। দিনে দিনে ভাসমান পানি থেকে মাছ অনেকটাই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা বাপ-দাদার এই জেলে পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছি। এখন আর বাঁচবার কোন উপায় নেই।
শহর সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাজারে ঘুরে দেখা যায়, এই ভরা বর্ষা মৌসুমে পুকুরের চাষ করা পাঙ্গাশ, কই, তেলাপিয়া ছাড়া চোখে পড়ার মত কোন জাতের মাছ নেই। এগুলো এখন বাজারের প্রধান মাছ। আর দু-একটা জাতের মাছ থাকলে তা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
বাজারে কয়েকজন মাছ বিক্রেতা বলেন, মাছ পানিতে থাকব কিভাবে। নদীতে, বিলে, হাওরে পানিতে কোন মাছ ছাড়া হয়না। আর কারেন্ট জালে ছোট মাছ ধরার কারণে দিনে দিনে দেশিয় জাতের মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে।
ইত্তেফাক/এমআর
