মিসরের প্রাচীন সমাধিতে সহস্রাধিক মূর্তি, মমির সন্ধান

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৭, ০৩:৩৩

সম্প্রতি মিসরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরনো একটি সমাধিস্থল থেকে বেশ কয়েকটি মমি, বর্ণময় কাঠের শবাধার এবং এক হাজারের বেশি ‘ফানেরারি’ প্রতিমূর্তি আবিষ্কার করেছে দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকরা। লুক্সর শহরের কাছে প্রাচীন এই সমাধিস্থলকে সাম্প্রতিককালের অন্যতম বড় আবিষ্কার বলে দাবি করেছে মিসরের কর্তৃপক্ষ।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তারা প্রথমদিকে জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটির কাছ থেকে ছয়টি মমি ও কিছু মমির অংশবিশেষ তারা আবিষ্কার করেছে। পরবর্তীতে তারা জানায়, প্রাচীন ওই সমাধিস্থল থেকে তারা আরো দুটি মমি উদ্ধার করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান মোস্তফা ওয়াজিরি বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, সমাধিস্থলে দশটি কফিন এবং আটটি মমি পাওয়া গেছে। সমাধিস্থলে খননকাজ অব্যাহত রয়েছে।

দেশটির মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সম্প্রতি বলা হয়েছে, বিখ্যাত কিংস উপত্যকার কাছে দ্রা আবুল নাগা সমাধিস্থলের কাছে ১৮তম রাজবংশীয় সমাধি আবিষ্কার হয়েছে। এর নামকরণ হয়েছে ওই শহরের বিচারক হিসেবে এক সময় দায়িত্ব পালনকারী মহত্ মানুষ উসেরহাত এর নামে। দেশটির প্রাচীন সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী খালেদ এল-ইনানি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। আমরা হাজারের বেশি কাঠের ফানেরারি প্রতিমূর্তি (উশাবতি) খুঁজে পেয়েছি। মূলত এসব উশাবতি প্রাচীন মিসরের সমাধিতে স্থাপন করা হতো মৃতদের পরবর্তী জীবনের দায়-দায়িত্ব পালনে সহায়তার জন্য। সমাধিতে কফিনগুলো খুব ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল। যদিও কিছু কফিন সময়ের সাথে সাথে ক্ষয়ে ও ভেঙে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা কফিনের ভেতর পাট বা শনের কাপড়ে মোড়ানো মমিগুলো ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে বলে জানান তিনি।

ওই সমাধিতে সাদা, কমলা, সবুজ-সহ বিভিন্ন রঙের পাত্র পাওয়া গেছে। এটি একটি ইংরেজি অক্ষর ‘টি’ আকৃতির সমাধি। সমাধিস্থলের মধ্যে আরেকটি কক্ষ খুঁজে পাওয়া গেছে। যদিও ওই কক্ষের খননকাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। মিসরের প্রাচীন সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেভাইন এল-আরেফ বলেন, এই সমাধির আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটা আমাদের প্রমাণ দিচ্ছে যে, আরো নতুন মমি অদূর ভবিষ্যতে আবিষ্কার করা সম্ভব হতে পারে।

ইত্তেফাক/নূহু