চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের নড়াইলে ক্ষুদে চিত্রশিল্পীরা ব্যতিক্রমী ছবি আঁকছেন। দুই হাজার ৯শ' ১৬ বর্গফুট ছবির এ পর্যন্ত এক হাজার ৮শ' ৯৫ বর্গফুট ছবি আঁকা সম্পন্ন হয়েছে। নড়াইলের শিল্পাঞ্জলি ভ্রাম্যমাণ অবৈতনিক আর্ট স্কুলের দুই শতাধিক শিশু শিল্পী কার্টিস পেপারে এ ছবি আঁকছে।
সম্পূর্ণ নতুন ধারার বড় এ ছবির উদ্যোক্তা হলেন, এসএম সুলতানের শিষ্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিমানেশ বিশ্বাস।নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে এই শিল্পীর নিজ বাড়িসহ হাতে গড়া পাঁচটি ছবি আঁকার স্কুলের শিশু চিত্রশিল্পীরা এ চিত্র আঁকছে। এদিকে স্কুলের শিশুরা নিয়মিতভাবে ছবি আঁকা শিখে থাকে। এদের ছবি আঁকার খাতা, রং, পেন্সিলসহ বিভিন্ন উপকরণ শিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস ফ্রি সরবরাহ করে থাকেন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। উল্লেখ্য, এসব শিশুদের অর্ধেকের বেশি আদিবাসী ও অশিক্ষিত পরিবারের ছেলে-মেয়ে।
IMG0
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক বিমানেশ বিশ্বাস জানান, শিশুরা দুই হাজার ৯শ' ১৬ বর্গফুটের অ্যামেরিকান কার্টিস পেপারে ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে এ ছবি আঁকা শুরু করেছে। শিশুরা ওদের ইচ্ছামত নিজের ভাবনায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ছবি আঁকছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জীবন, মসজিদ-মন্দির, নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন লোকজ উৎসব, বর-কনে, পালকি, রাখাল, কৃষক-শ্রমিক, কম্পিউটার, মোবাইল টাওয়ার, মাছ শিকার, ঈদের নামাজ ইত্যাদি।
শিল্পীর ইচ্ছা বিশাল এ ছবি ডিজিটাল প্রিন্ট করে বিভিন্ন স্কুলে দেখানোর ব্যবস্থা করবেন, যাতে শিশুদের চারুকলা ও ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ হয়। তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ছবি আঁকা শেখাই। ওরা ছোট এ ফোর সাইজের কাগজে ছবি আঁকে। এ ছবি সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সেজন্য ভেবেছি এভাবে বড় ছবি আঁকলে সংরক্ষণ করা সম্ভব।' এ বছরের মধ্যেই এ ছবি আঁকা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে এ ধরণের ছবি হয়নি।' বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বে শিশুদের এতো বড় ছবি এই প্রথম বলে তিনি দাবি করেন।
ইত্তেফাক/জামান
