অজানা রোগে চিকিৎসার অভাবে মুক্তামনি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৭, ২২:২৮
 
এক অজানা রোগে চিকিৎসার অভাবে ভুগছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের ১২ বছরের শিশু মুক্তামনি। এ অবস্থায় খরচ মেটাতে প্রধানমন্ত্রী সহ বিত্তবানদের প্রতি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন মুক্তামনির বাবা মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন।
 
ইব্রাহীম হোসেন দাম্পত্য জীবনে দুই যমজ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তার দুই যমজ সন্তানের মধ্যে হীরামনি বড় ও মুক্তামনি ছোট। আর ছোট ছেলে আল-আমিনের বয়স এক বছর তিন মাস।
 
মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন জানান, জন্মের প্রথম দেড়  বছর যাবত ভালোই ছিল হীরা মনি ও মুক্তা মনি। কিছুদিন পর মুক্তা মনির ডানহাতে একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এর পর থেকে তা বাড়তে থাকে। সাথে চলে স্থানীয় চিকিৎসাও। দেখলে মনে হবে গাছের বাকলের (ছালের) মত ছেয়ে গেছে পুরো হাতটি। আক্রান্ত ডান হাত তার দেহের সব অঙ্গের চেয়েও ভারি হয়ে উঠেছে। ভেতরে পোকা জন্মেছে। বিকট যন্ত্রণায় মুক্তামনি সব সময় অস্থির। ডাক্তার বলছেন এ ব্যাধি তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।
 
তিনি জানান, মুক্তার সারা দেহে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তার শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে। শুধু হাতের ভার বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দেখানো হয়েছে মুক্তামনিকে। কেউ কোনো সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেনি। হতাশ বাবা ইব্রাহীম গত ছয় মাস যাবত চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় মুক্তাকে বাড়িতে রেখে কেবল ড্রেসিং করছেন।
 
তিনি আরো জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক হাসপাতালে গিয়েছি। এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। সঠিক চিকিৎসা পাইনি। তবে ডাক্তার বলছেন রোগটি বিরল হলেও বাংলাদেশে এর চিকিৎসা রয়েছে। বাংলাদেশে বৃক্ষ মানবের সফল চিকিৎসা হয়েছে বলেও জানান ডাক্তার। তাই তিনি আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী আমার মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।'
 
যন্ত্রণায় কাতর মুক্তামনি জানায়, শুধু চুলকায়। আর যন্ত্রণা করে। গরমে ঠাণ্ডায় বাড়ে। সে আক্ষেপ করে আরো বলে, বাইরের দুনিয়া আমি দেখতে পারিনা। স্কুলে যেতে পারিনা। খেলতে পারিনা। আমার জীবনে কোনো আনন্দ নেই।
 
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. নাসিরউদ্দিন জানান, মুক্তামনির এ রোগটি বিরল। প্রাথমিকভাবে বলা যায় এর নাম হাইপারকেরাটসিস। এটি স্কিন ক্যান্সারও হতে পারে।  বাংলাদেশে এর চিকিৎসা আছে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা ঢাকা মেডিকেলে এর চিকিৎসা সম্ভব। তাই, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি কোনো সহৃদয় ব্যক্তি এগিয়ে এলে মুক্তামনি ও তার পরিবারে হাসি ফুটবে বলে জানালেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
 
ইত্তেফাক/জামান