ছোট হয়ে যাচ্ছে সেন্টমার্টিন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৭, ০২:৪৫

জোয়ারের পানি আর সাগরের ঢেউয়ে ভেঙে দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে সেন্টমার্টিন। দ্বীপের গোরস্থান সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে। অবাধে পাথর উত্তোলন, বালি এবং সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের কারণে সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে ক্ষতবিক্ষত প্রবাল দ্বীপের মানুষ যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; তখনই টানা বৃষ্টিপাতে দ্বীপের মানুষ আবারো ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেন্টমার্টিনের মানুষ এখন হতাশায় দিনাতিপাত করছে। সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেন্টমার্টিন রক্ষায় প্রকল্প গ্রহণের জন্য দ্বীপবাসী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

এ দ্বীপে মানুষের স্থায়ী বসবাস শুরু প্রায় দুশ’ বছর আগে। এ রকম ভাঙন কোনো সময় দেখা যায়নি। জোয়ারের পানি আর সুমদ্রের ঢেউয়ে দ্বীপের চারপাশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বেশি ভেঙেছে উত্তর-পশ্চিম অংশে। ঘূর্ণিঝড়ে বিস্তীর্ণ কেয়া বন সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। দ্বীপের একমাত্র কবরস্থানটির দেড়শ’ ফুটেরও বেশি সাগরে তলিয়ে গেছে। মাটি সরে যাওয়ায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িসহ আশপাশের কয়েকটি স্থাপনার সীমানা  প্রাচীর ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে দ্বীপের গাছপালা ভেঙে গেছে। সাগরপাড়ে রোপিত বৃক্ষরাজি ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙে যাওয়ায় এখন লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ছে।

দ্বীপের মানুষ আশঙ্কা করছে, সেন্টমার্টিন রক্ষায় এগিয়ে না আসলে হয়ত প্রবাল দ্বীপ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। ৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রবাল দ্বীপে আট হাজার মানুষ বসবাস করে। ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ এবং বর্ষার ভারী বর্ষণে দ্বীপে বসবাসকারী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান খাঁন জানান, সরকারি-বেসরকারি বরাদ্দ না পেয়ে শতবর্ষের কবরস্থান সাগরে ভেসে যাচ্ছে দেখে দ্বীপ রক্ষায় আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নূর আহমদ জানান, ঘূর্ণিঝড় এবং টানা বৃষ্টিপাতে প্রবাল দ্বীপের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে গাছপালা ভেঙে যাওয়ায় দ্বীপ রক্ষা করা যাচ্ছে না। তিনি জরুরিভিত্তিতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ জানান, সেন্টমার্টিনকে ঘিরে সরকারের অনেক চিন্ত-ভাবনা রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু