পূর্বধলায় উপবৃত্তির টাকা ওঠাতে কিনতে হচ্ছে সিম!

আপডেট : ১০ জুলাই ২০১৭, ১১:১৭
নেত্রকোনার পূর্বধলায় হোগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের জন্য অভিভাবকের কাছে মোবাইল সিম বিক্রির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
 
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই শুক্রবার উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের হোগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুল আলম মোবাইল সিম বিক্রেতা এজেন্টদের নিয়ে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে সিম বিক্রি করছিলেন। এতে ক্রেতাদের কাছ থেকে সিমের মূল্য বাবদ একশ থেকে দেড়শ টাকা আদায় করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া একটি সিমের মূল্য একশ থেকে দেড়শ টাকা হতে পারে না। এতে তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি তুলে ধরেন। 
 
এ সময় তারা বলেন, তাদের বৈধ মোবাইল সংযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক মোবাইল কোম্পানির এজেন্টদের যোগসাজসে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে সিম ক্রয় করতে তাদের বাধ্য করছেন। এ ব্যাপারে ৫ম শ্রেণির ছাত্র তন্ময়ের পিতা হোগলা বাজারের বাসিন্দা বাবুল রাজভর, ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়ার পিতা আ. আব্দুল আজিজ, ৩য় শ্রেণির ছাত্রী মুনা’র মা মরিয়ম মন্ডল  জানান, তাদের নিজস্ব বৈধ মোবাইল সংযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের নামে তাদেরকে সিম কিনতে বলছেন। সিম না কিনলে উপবৃত্তির টাকা পাওয়া যাবে না বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মো. মাকসুদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের বৈধ মোবাইল সংযোগ না থাকায় ইতিপূর্বে ২৭৮জন উপবৃত্তিধারীর মধ্যে মাত্র ১৮জন উপবৃত্তির টাকা পেয়েছে, বাকীরা পায়নি। তাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী অভিভাবকদের মধ্যে একসাথে বৈধ মোবাইল সংযোগ দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিমের দামের বিষয়টি বিক্রেতা আর ক্রেতাদের আলোচনা সাপেক্ষে হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফাতেমা সুলতানা বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এমআই