মিরসরাই ট্র্যাজেডির ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি আজ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৭, ১০:২৯
আজ থেকে ছয় বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ কেড়ে নেয় ৪৫ জন শিক্ষার্থীর। আজ ১১ জুলাই শোকাবহ মিরসরাই ট্র্যাজেডির ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি।  মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখে আবুতোরাবে ফেরার পথে সৈদালীতে একটি ডোবায় পতিত হয় শিক্ষার্থীদের বহনকারী মিনি ট্রাক। একে একে মারা যায় ৪৫ জন স্কুল শিক্ষার্থী।
 
নিহত স্কুল শিক্ষার্থী তাকিউল্লাহ মাহমুদ সাকিবের মা পারভীন আক্তার বলেন, সাকিবের পড়ার টেবিল এখনো সেই আগের মতোই আছে। তার স্মৃতিচিহ্ন আগলে রাখবেন আজীবন। ছয় বছরে একদিনের জন্যও ভুলতে পারিনি প্রিয় সন্তানকে।  
 
নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের খোঁজ খবর নিতে গেলে এক হূদয় বিদায়ক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়ে। আদরের সন্তানের স্মৃতি যেন কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তারা। সাইদুল, নয়ন, ইফতেখার, কামরুলের মায়েরা সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে এখনো পথ চেয়ে থাকেন, ছেলে বাড়ি ফিরবে মা বলে ডাকবে এ আশায়। 
 
নিহতদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ ও ‘অন্তিম’ স্থাপন : 
 
নিহত ছাত্রদের স্মরণে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ আর দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’। নিহতদের মধ্যে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বেশি হওয়ায় তাদের স্মৃতি রক্ষায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ২০১২ সালে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’। সে সময়ের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়য়ার নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ করা হয়। দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্রদের সিংহভাগই আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের। স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ এ নিহতদের ছবি সংবলিত বিশেষ টাইলস স্থাপন করা হয়। স্থাপনা শিল্পটিও যেহেতু সেই বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মাণ হবে- তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণের অনুভূতি আর আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘আবেগ’।
 
আর স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’ নির্মাণ করা হয়েছে, বৃত্তাকার বেদির ওপর স্থাপিত মূল স্তম্ভটির (অষ্টভুজ) উচ্চতা ২০ ফুট, তার চূড়ায় শিখা দুই দশমিক পাঁচ ফুট, তিন ধাপ বেদি দুই দশমিক পাঁচ ফুট এবং ভূমি থেকে সর্বমোট উচ্চতা ২৫ ফুট। মূল স্তম্ভকে ঘিরে এক থেকে পর্যায়ক্রমে সাত ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সাতটি আয়তাকার পিলার সামনে থেকে একপাশ দিয়ে চলে গেছে। সপ্তম পিলারের ওপর থেকে উপ-বৃত্তাকার উড়াল পথে ছয় ধাপের একটি সিঁড়ি মূল স্তম্ভের মাঝামাঝি গিয়ে লেগেছে। ৫ নম্বর পিলারের ওপর থেকে একটি ভাঙা স্লেট মূল স্তম্ভের গায়ে হেলে আছে। মূল স্তম্ভের পাশে একটি আয়তাকার পিলার আছে যেটিতে নিহতদের নামের তালিকা লেখা রয়েছে। এর উচ্চতা পাঁচ ফুট। বৃত্তাকার মূল বেদির তিনটি ধাপ রয়েছে। এগুলোর উচ্চতা যথাক্রমে ১১ দশমিক পাঁচ ফুট, ১৪ ফুট ও ২০ ফুট। তৃতীয় ধাপটির মাঝে বৃত্তাকার জলাধার রয়েছে। তৃতীয় বৃত্তাকার ধাপ থেকে তিন ধাপের সিঁড়ি নেমে আসে সংযোগ সড়কে। দুর্ঘটনাটি যেহেতু অপরিসর একটি জলাশয়ে সংঘটিত হয়েছে, আর পানিতে কিছু নিক্ষিপ্ত হলে বৃত্তাকার ঢেউয়ে স্পন্দিত হয়, এ কারণে স্থাপনা কাঠামোটির নান্দনিক বিচারে বৃত্তাকার আবহ তৈরি করে। চলতি বছরের ১৪ মে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের অর্থায়নে দুর্ঘটনাস্থলে নির্মাণ করা হয় ‘অন্তিম’। স্মৃতিস্তম্ভ দুইটির নকশা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ সাইফুল কবীর।
 
ইত্তেফাক/এমআই