মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের প্রতিভাবান বিজ্ঞানি সিদ্ধার্থ শংকর বিশ্বাস আবিষ্কার করেছেন মানুষের শরীরে এসিডিটি নির্ধারণের অভিনব যন্ত্র ‘গ্যাস্ট্রোমিটার’। যা ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো মেডিক্যাল ফিজিক্স বিভাগের মাধ্যমে স্বীকৃতি পেয়ে সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অব পটেন্টস, ডিজাইন-এর ট্রেডমার্ক’ দপ্তরে জমা দেয়ার পর ২০১৪ সালে পটেন্ট নিবন্ধিত হয়েছে আবিষ্কারটি। কিন্তু উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আবিষ্কারটি আলোর মুখ দেখতে পারছে না। এ ছাড়াও স্থির পানি থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনসহ বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কারে সহায়তার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সিদ্ধার্থের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে- অত্যন্ত সাধারণ একটি টিনের চালার নিজ বাড়িতে প্রাইভেট টিউশনি করে ও পল্লী চিকিত্সক হিসেবে কাজ করে সংসার চালান সিদ্ধার্থ। দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া শেষ করতে না পারলেও ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান মনস্ক ও বিজ্ঞানের ছাত্র সিদ্ধার্থের মধ্যে আছে আবিষ্কারের নেশা। তার মতে দেশে অধিকাংশ জটিল অসুখের মাত্রা নির্ণয়ের সুযোগ আছে। অথচ গ্যাস্ট্রিকের নেই। ফলে চিকিত্সকরা অনুমান নির্ভর চিকিত্সা দিয়ে থাকেন। এ ভাবনা থেকে শুরু হয় গবেষণা। দুই বছরের গভীর সাধনায় আবিষ্কার করেন ‘গ্যাস্ট্রোমিটার’। যা দিয়ে গ্যাস্ট্রিক এর মাত্রা নিরূপণ করে সহজেই নির্ধারিত ও ফলপ্রদ ওষুধ দেয়া সম্ভব হয়।
সিদ্ধার্থ জানান, ইলেকট্রনিক্স সেন্সর, ডিভাইস ও ল্যাপটপ সহকারে তার তৈরি যন্ত্র দিয়ে মাইক্রো এম্পিয়ার পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর পাকস্থলীতে কী পরিমাণ এসিডিটি আছে তা সহজেই মাপা সম্ভব। গ্যাস্ট্রোমিটার এর ইলেকট্রন সাপোর্ট পয়েন্ট (ইএসপি) পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীর লালা নিয়ে এ যন্ত্রের মাধ্যমে সহজেই মানুষের পাকস্থলিতে গ্যাসের পরিমাপ করে অনুমান নির্ভরতার বিপরীতে সঠিক মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করা সম্ভব।
কিন্তু পেটেন্ট পাওয়ার পর এটি বাজারজাতের জন্য কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না তিনি। বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানি তার কাছ থেকে পেটেন্ট কিনে নিতে চাইলেও তিনি তা দিতে রাজি হননি। কারণ এসব কোম্পানি এটিকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক করে ফেলবে। আর তিনি চান সরকারের মাধ্যমে এর প্রসার হোক। যেন সাধারণ মানুষ এর থেকে সেবা পেতে পারেন।
মাগুরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এফবিএম আব্দুল লতিফ জানান, সিদ্ধার্থের আবিষ্কৃত গ্যাস্ট্রোমিটারটি চিকিত্সা শাস্ত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। তবে এটি নিয়ে আরো গবেষণার দরকার আছে।
সিদ্ধার্থ দুঃখ করে বলেন, দীর্ঘদিন বিভিন্ন মহলে ধর্না দিয়েও এ যন্ত্রটিকে আধুনিকায়নের জন্য কোনো সহায়তা পাননি। গ্যাস্ট্রোমিটার ছাড়াও স্থির পানি থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন, গণিতের লম্ব দূরত্ব নির্ণয়ের সূত্রসহ আরো বেশকিছু চমকপ্রদ আবিষ্কার রয়েছে তার। কিন্তু এর জন্য একটি গবেষণাগার ও সরকারি সহায়তা জরুরি।
ইত্তেফাক/নূহু
