উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষায় বগুড়ার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ২৪ঘণ্টায় ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বাঙালি নদীর পানিও বাড়ছে। তবে তা এখনো বিপৎসীমার নীচে রয়েছে। যমুনা তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
জেলার তিন উপজেলার ৭৫ গ্রামের ১৩ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে ৫০ হাজার মানুষ। ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ দান বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে পাট, ধান, সবজি ও বীজতলাসহ তিন হাজার আটশ' ৭৭ হেক্টর জমির ফসল। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে। বন্যার্ত এলাকার মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সুপেয় পানির জন্য নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ বুধবার বিকেলে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেইসাথে বাড়ছে বাঙালি নদীর পানিও। তবে এখনও তা বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। এদিকে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবার গুলোকে তাদের গবাদি পশু নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করতে দেখা গেছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার সদর, কুতুবপুর, কামালপুর, চন্দনবাইশা, চালুয়াবাড়ী, কাজলা, কর্ণিবাড়ী, বোহাইল, হাটশেরপুর ৯টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র জানান, জেলার বন্যাকবলিত তিন উপজেলায় পাট, ধান, সবজি ও বীজতলাসহ তিন হাজার আটশ' ৭৭ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে আউশ ১হাজার ৩৬৭ হেক্টর জমির, পাট ২হাজার ৪৪০ হেক্টর জমির, বীজতলা ৩০ হেক্টর এবং সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে ৪০ হেক্টর জমির। এছাড়া বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ৮৫ টি পুকুর। বাঙালি নদীর পানি বাড়তে থাকলে এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বন্যায় পানি প্রবেশ করায় ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ দান বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাতলায় ১২টি ও ধুনটে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুই মাদ্রাসায় পানি উঠায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান
