নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় শালকি নদীতে এক নবজাতকের লাশ তিন দিন ধরে ভেসে চলেছে। বর্ষাকালে নদীর স্রোতে দ্রুতই স্থান পরিবর্তন হচ্ছে। নদীতে ভাসমান ওই নবজাতকের লাশ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কেউ লাশ উদ্ধার করেনি।
উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের চান্দিনা পাড়া শালকি নদী সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী যুবক মো. নাহিদ হোসেন (২৫) বলেন, 'মঙ্গলবার দুপুরে শালকি নদীর স্রোতে একটি বাচ্চার লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর সেখানে অনেক মানুষ ভিড় জমায়। ওই সময় একজন বলে উঠে গত সোমবার দুপুরে নদী সংলগ্ন সেভেন স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একটি মৃত্যু বাচ্চা প্রসব হয়। হয়তো বা ওই বাচ্চাটিই হতে পারে। তখন আমিসহ কয়েকজন ওই ক্লিনিকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করি ওই বাচ্চার ব্যাপারে। ক্লিনিকের মালিক আমাদের বলে, মৃত বাচ্চাটির লাশ আমারা তাদের পরিবারকে দিয়েছি। তারপর আমরা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন বাচ্চাটির মায়ের কেবিনে গিয়ে দেখি শুধুমাত্র প্রসব হওয়া বাচ্চাটির মা বেডে শুয়ে আসে। তার পাশে পরিবারের কেউ নেই। ওই মাকে বাচ্চা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তার মৃত বাচ্চাটি সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেন নাই।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাত টায় সেভেন স্টার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. সেলিম রেজার কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত সোমবার সকালে পার্শ্ববর্তী দেবিগজ্ঞ উপজেলার প্যারালবাড়ি এলাকার মমিনুল ইসলামের স্ত্রী মিনারা (৩০) প্রচণ্ড প্রসব ব্যথা নিয়ে আমার ক্লিনিকে ভর্তি হয়। এরপর দুপুরে ডা. মো. আইনুল ইসলাম তার সিজার করেন। এতে তার মৃত মেয়ে বাচ্চা প্রসব হয়। আমরা ওই বাচ্চাটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি। তিনি বলেন, 'নদীতে ভাসমান ওই বাচ্চাটি ক্লিনিকে প্রসব হওয়া মৃত বাচ্চা কিনা তা আমরা জানি না।' মিনারা বেগমের মামাতো ভাই দেবীগজ্ঞ এলাকার আনোয়ার হোসেন বলেন, 'ভুল করে আমার বোনের পরিবারের মহিলারা মৃত বাচ্চাটিকে নদীতে ফেলে দেয়। পরে আমরা তা জানতে পারি। এটা ভুল হয়েছে।'
ইত্তেফাক/জামান
