মাদারীপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ১৫

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৭, ০০:১০

মাদারীপুরে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে গতকাল বুধবার সংঘর্ষে দুই পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় ২০টিরও বেশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র্যাব প্রায় ১০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

জানা গেছে, গত ২ জুলাইয়ের একটি সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহমুদের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রলীগ মঙ্গলবার শহরের কলেজ গেট এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে গতকাল মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিকের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন পালন করে।

এ সময় সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একটি মিছিল নিয়ে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের সহস্রাধিক নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে ডিবি পুলিশের এসআই স্বপন কুমার, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাশেদ তালুকদার খোকন, শফিক, সজিব সরদার, তুষার হাওলাদার, সাফা করিম, শোভন কুন্ড, শাওন মাতুব্বর, জাহিদ ভুঁইয়াসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় ইটেরপুর ও জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০টিরও বেশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খানের কুকরাইল এলাকার বাড়ি এবং শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মাতৃভূমি নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মাদারীপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান বলেন, সংঘর্ষের সময় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খানের কুকরাইলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান বলেন, ‘মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে আমাদের এক ছেলে কোর্টে যাচ্ছিল। এ সময় ওরা তাকে কুপিয়ে আহত করে। আমাদের ছেলেরা ঘটনা জানতে গেলে তারা ওদের ধাওয়া দিলে পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।’

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় আমাদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘মাতৃভূমি’ হোটেলও ভাঙচুর করে।

মাদারীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাংশের মানববন্ধন চলাকালে সংষর্ঘ হয়। পুলিশ ও র্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু