জামালপুরে বন্যা দুর্গতদের হাহাকার

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৭, ১৮:৪৬
 
জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অরো অবনতি হয়েছে। বন্যা দুর্গত অভাবী মানুষের মধ্যে চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। যমুনা ও ব্রক্ষপুত্র নদের পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
জেলার দেওয়ানগঞ্জ,ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি ও জামালপুর সদরের তিনটি ইউনিয়নের সিংহ ভাগ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সারা জেলায় ২৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬০টি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা মোট ২৩০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমান।
 
জেলার ৬টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে অসহায় মানুষ। জেলার অন্যান্য উপজেলা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইসলামপুর উপজেলা সম্পূর্ণরূপে বন্যায় কবলিত একটি এলাকা। উপজেলার যমুনার পাড়ে কুলকান্দি, বেলগাছা, নায়ারপাড়া, চিনাডুলি,সাপধরী ,পার্থর্শী ও ইসলামপুর সদর  ইউনিয়নে বন্যা দুর্গত, নদী ভাঙ্গা মানুষগুলো এখন যে কোন লোকজন দেখলে তারাছুটে আসে।
 
আঞ্চলিক ভাষায় দুর্গতরা বলে, 'বাবা আমারে কিছু ত্রাণ সাহায্য কর। নইলে নামডা লেইখা নেও। কেউ  আমাগো খোঁজ নেয় না বাবা। কাইল তনে (কাল থেকে) না খাইয়া আছি।' কথা গুলো বলছিলেন চিনাডুলী গ্রামের আশি বৎসর বয়সের বৃদ্ধা আমেনা বেগম। তারকথা শেষ না হতেই মর্জিনা, ফরিদা, আব্দুল লতিফ, বাসিরন, চায়না প্রত্যেকেই ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন।
 
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আহাম্মেদ কবীর বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় আজ ৫০ মেট্রিকটন চাল এবং নগদ ৭০হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, 'এ পর্যন্ত সারা জেলার বন্যার্তদের জন্য ১৪০ মেট্রিকটন চাল এবং দুই লাখ ৯০হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান