'রিলিফ চাইনা হামরা, তিস্তার ভাঙন থেকে রক্ষা চাই'

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৭, ১৯:৩৬
 
একের পর এক ঘর-বাড়ি আর ফসলি জমি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। তাদের সকলের দাবী, 'রিলিফ চাই না হামরা (আমরা), তিস্তার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা চাই'। রবিবার দুপুরে উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন সাত নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এভাবেই সাংবাদিকদের পেয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
 
শনিবার গভীর রাতে তিস্তার ভাঙনে গোবর্দ্ধন ইসমাইলপাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদসহ পাঁচটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রবিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর তীরে ক্ষতিগ্রস্তরা অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হল, উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্দ্ধন গ্রামের আব্দুল মালেক, ওয়ারেছ, ছকমাল, কাইয়ুম ও আব্দুল হাকিম। আব্দুল মালেক বলেন, 'যেভাবেই হোক হামরা তিস্তার ভাঙন থেকে রক্ষা চাই।' শুধু মালেক নয়, ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর সকলের দাবী একটাই।
 
এদিকে শনিবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোহাম্মদ আলা উদ্দিন খাঁন, ইউএনও আসাদুজ্জামান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন। সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হামিজার রহমান জানান, এখন পর্যন্ত এ ওয়ার্ডে একটি মসজিদসহ ৫৬টি পরিবারের ঘর-বাড়ি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে সরকারি সহায়তা তার ওয়ার্ডে অপ্রতুল বলে দাবী করেন তিনি।
 
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ওই ইউনিয়নে সরকারিভাবে ২৭ মেট্রিকটন জিআর চাল, দুই লাখ টাকা আর দুইশ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই ইউনিয়নের জন্য আরও ২০ মেট্রিকটন চাল, এক লাখ টাকা ও চারশ' প্যাকেট শুকনা খাবারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইউএনও আসাদুজ্জামান জানান, সার্বক্ষণিকভাবে নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
ইত্তেফাক/জামান