কুমিল্লায় বাস মালিকের পিটুনীতে মো. রুহুল আমিন নামের এক বাসচালক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সন্ধ্যায় জেলার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ওই বাস চালক দেবিদ্বার উপজেলার মির্জানগর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। এ ঘটনায় মির্জানগর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রুহুল আমিন ঢাকা-কোম্পানিগঞ্জ সড়কের তিশা পরিবহন নামের বাসের চালক। সম্প্রতি ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় তার বাসটি একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ওই বাসটির তিনটি জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। এ ঘটনায় ওই পরিবহনের পরিচালক এবং ওই বাসের মালিক জামান হোসেন ভূঁইয়া ওরফে খোকন ও তার ম্যানেজার পাত্তি খোকনসহ তাদের লোকজন গত শনিবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিটালে বাসের চালক রুহুল আমিনকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় অন্যান্য বাসের চালক ও শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে আহত রুহুল আমিনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেয়।
বাস চালকের নিকটাত্মীয় শ্রমিক নেতা মনির হোসেন রবিবার সন্ধ্যায় জানান, রুহুল আমিন গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়িতে আসার পর সকালে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত জামান হোসেন ভূঁইয়া ওরফে খোকন ও তার ম্যানেজার পাত্তি খোকনসহ দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে তিশা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী মোবারক হোসেন চেয়ারম্যান জানান, ওই বাস চালক রুহুল আমিনের মৃত্যুর খবরটি আমরা জেনেছি। ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক তদন্তপূর্বক এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার। এ বিষয়ে তিশা পরিবহনের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখব। দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল ঢাকা হলেও দেবিদ্বার হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ময়নাতদন্ত করা হবে।
ইত্তেফাক/এএম।
