জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ‘বড় মানিক বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ’ ৩৩ বছরেও এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে শিক্ষক কর্মচারীরা।
নারী শিক্ষার প্রসারে এলাকার দানশীল ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বর্গের সহযোগীতায় ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালে একটি ভবন নির্মাণ করে । ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। ১৯ বছর ধরে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার মান ও ফলাফল ভাল। সকল শর্ত পূরণ করার পরও এমপিও না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা হতাশায় ভুগছে। দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করে ধৈর্য্য হারিয়ে ৩ জন সুপারিন্টেনডেন্ট, ৪জন শিক্ষক ও ১জন কর্মচারী এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন। কয়েক জন শিক্ষকের চাকরি শেষের পথে। তবুও তারা আশায় বুক বেঁধে আছে হয়তো একদিন এমপিও হবে।
ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেনডেন্ট রবিউল ইসলাম বলেন, এখান থেকে পাস করে অনেক ছাত্রী চাকরি করছে বেতনও পাচ্ছে। অথচ আমরা বেতন পাচ্ছিনা। সরকার অন্যখাতে অর্থ বরাদ্দ দিলেও এমপিও’র জন্য তেমন অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়না। সারাদেশে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সোয়া লাখ শিক্ষক কর্মচারী এমপিও ভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে সরকারের ভিশন টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, দীর্ঘদিনেও এমপিও না হওয়ায় কিছু শিক্ষক অন্যত্র চলে যাওয়ায় পাঠদান সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষক রাখা হয়েছে। উপজেলায় এরকম প্রতিষ্ঠান আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা । জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে অনেকে এই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে। এমপিও না হওয়ায় তারাও হতবাক হয়েছেন।
ইত্তেফাক/এমআর
