পাকিস্তান ক্রিকেট আর ফিক্সিং— এ দুটিকে যেন কোনোভাবেই আলাদা করা যাচ্ছে না। আশি-নব্বইয়ের দশক থেকে পাকিস্তানের নামের সাথে জড়িয়ে আছে ফিক্সিং। সম্প্রতি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরও ফিক্সিং কেলেঙ্কারি যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না পাকিস্তান ক্রিকেটের।
একের পর এক ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে আলোচনায় আসছেন দেশটির ক্রিকেটাররা। এবার এই অভিযোগে শিরোনাম হয়েছেন দেশটির দুই তারকা ক্রিকেটার— উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান উমর আকমল ও ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ সামি। ইতোমধ্যে এই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পর তিন সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে পিসিবি। ট্রাইব্যুনালের কাছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার অপারেশন্স অফিসারের দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আকমল এবং সামির বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ওই কর্মকর্তা বেশ কয়েকবার আকমল-সামির নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানা যায়। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের সূত্র দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তানি শীর্ষ কয়েকটি গণমাধ্যম।
পিএসএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পর থেকেই মূলত ফিক্সিং প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবি ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ফিক্সিংয়ের সাথে আকমল ও সামির জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার আগেই দুর্নীতি বিরোধী আইন ভঙের দায়ে যেকোনো সময় তাদের বিরুদ্ধে আইনী নোটিস বা চার্জশিট পাঠাতে পারে।
পিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার কর্মকর্তা ছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ ইউসুফ বেশ কয়েকবার তাদের নাম নিয়েছে। পিএসএলের দ্বিতীয় আসরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে যোগাযোগ করে ফিক্সিংয়ের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ইউসুফ নামের ওই বুকি।
ইত্তেফাক/আনিসুর
