মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী খালিয়া রাজারাম ইনস্টিটিউশনে পরীক্ষার হলে কড়াকড়ি আরোপ ও বখাটেপনা প্রতিরোধ করায় ক্ষিপ্ত ছাত্রের হামলায় শিক্ষক গুরুতর আহত হয়ে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চলমান পরীক্ষা বর্জন করে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
আজ বুধবার বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি অভিযুক্ত ঐ ছাত্র আজিম মোল্লাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্র ও আহত শিক্ষক জানান, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল আলম সোমবার সকালে রাজৈর উপজেলার খালিয়া রাজারাম ইনস্টিটিউশন পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের মূল ফটকে কিছু বখাটে ছেলেদের আনাগোনা দেখতে পেয়ে শিক্ষকদের অবহিত করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বখাটেদের সরানোর জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দিলে অত্র বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক কাশি নাথ মৃধা এগিয়ে যান এবং বখাটেদের বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করার জন্য বলেন। এ অবস্থায় অন্যান্যরা চলে গেলেও দশম শ্রেণির ছাত্র আজিম মোল্লা না গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এক পর্যায়ে আজিম মোল্লার স্কুলব্যাগ তল্লাশি করে তাকে দ্রুত সরিয়ে দেয়া হয়।
আহত শিক্ষক কাশিনাথ জানান, বিকালে পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে ভ্যান যোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে গণউন্নয়ন প্রচেষ্টার সামনে আসলে ওঁৎ পেতে থাকা অত্র বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আজিম মোল্লা শিক্ষকদের পথরোধ করে এবং ঐ শিক্ষক কাশি নাথ মৃধার উপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক আহত করে দ্রুত চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষক কাশিনাথকে উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক উপসচিব ও জাতীয় নদী কমিশনের সদস্য শামসুল হক মোল্লা জানান, ঐ ছাত্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
রাজৈর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার বালা জানান, ন্যাক্কার জনক ঘটনা শুনেছি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এমআই
