বালিয়াকান্দির ১৩ গ্রাম গড়াই নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৭, ০১:২৯


বালিয়াকান্দি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত গড়াই নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে দুটি ইউনিয়নের ১৩ গ্রাম।

গড়াই নদীর ভাঙন প্রতিরোধে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নেয়ায় পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার নারুয়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের ১৩ গ্রামবাসী ভাঙনে সর্বস্ব হারানোর আতংকে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে এ সকল গ্রাম। প্রতিবছর পানি বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার সময় ব্যাপক হারে ভাঙনের শিকার হয় এ অঞ্চলের বাড়ি-ঘরসহ ফসলি জমি। অব্যাহতভাবে গড়াই নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো ভাঙনের শিকার হলেও প্রতিরোধে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে।

গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনের কবলে পড়েছে নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা, কোনাগ্রাম, জামসাপুর, বাকসাডাঙ্গী, নারুয়া, সোনাকান্দর ও জঙ্গল ইউনিয়নের পোটরা, আখপোটরা, পুষআমলা, সমাধিনগর, হাবাসপুর, বাঙ্গরদাহ ও তারালিয়া গ্রাম। বাকসাডাঙ্গি গ্রামের  যুবকরা স্বেচ্ছায় বালুর বস্তা ফেলে মসজিদ ও এলাকাকে ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছর পানি হ্রাসের সময়ই নারুয়া ইউনিয়নের মরাবিলা ও কোনাগ্রামের পাকা সড়ক এবং নারুয়া  খেয়াঘাট এবং জামসাপুর গ্রাম এলাকার বেড়িবাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গড়াই নদীর ভাঙন থেকে ১৩টি গ্রাম রক্ষা করার জন্য এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করা হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. ইকবাল সরদার জানান, গড়াই নদীর ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমের সম্মতিতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুনরায় সংস্কারের জন্য বাজেট চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই বাজেট বরাদ্দ হলে নদী ভাঙন রক্ষার কাজ শুরু করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু